টানা দাবদাহে ইতি! ধেয়ে আসছে জোড়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, বাংলায় কি কালবৈশাখীর তান্ডব?

দক্ষিণবঙ্গের আকাশে অবশেষে স্বস্তির মেঘ। কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের পর এবার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের মতে, পরপর দুটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার (Western Disturbance) প্রভাবে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশজুড়ে দুর্যোগের মেঘ ঘনাবে। যার প্রভাবে ঝলসানো গরম কাটিয়ে বৃষ্টির দেখা মিলবে বাংলাতেও।

কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, অত্যধিক গরমের ফলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করেছে। এই আর্দ্র বায়ু যখনই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সঙ্গে মিশবে, তখনই তৈরি হবে বজ্রগর্ভ মেঘ। আর তার জেরেই বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আছড়ে পড়বে শক্তিশালী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়।

একনজরে আবহাওয়ার বড় আপডেট:

  • কবে থেকে বৃষ্টি? আজ ২৮ এপ্রিল বিকেল থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে বদল শুরু হবে। বাংলায় ২৯ এবং ৩০ এপ্রিল বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা।

  • ঝড়ের গতিবেগ: ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কোনো কোনো জায়গায় তা ৮০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

  • কোথায় কোথায় সতর্কতা? গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার বিস্তীর্ণ অংশে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

স্বস্তি না কি দুর্যোগ? দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা না মেলায় মাটির আর্দ্রতা তলানিতে ঠেকেছে। তাই এই বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য স্বস্তির হলেও, ঝড়ের দাপটে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে।

শহরের রাজপথ থেকে গ্রামের সবুজ মাঠ— এখন সবার চোখ আকাশের দিকে। ‘কালারফুল’ গ্রীষ্মের দাপট কমিয়ে কবে শান্ত হবে প্রকৃতি, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy