ভয়ঙ্কর মৃত্যুফাঁদ! লিফটের নিচে মাথা ঢুকে পিষে গেলেন মহিলা কর্মী, হাড়হিম করা ভিডিও ভাইরাল

সরকারি হাসপাতালের করিডোরে তখন আর পাঁচটা দিনের মতোই ব্যস্ততা ছিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের একটি অসতর্কতা যে এমন নারকীয় পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। মহারাষ্ট্রের নাসিকের ডক্টর বসন্তরাও পওয়ার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠা দুর্ঘটনা। মালপত্র ওঠানামার লিফটের নিচে মাথা ঢুকে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৫০ বছর বয়সী সাফাই কর্মী জ্যোতি শিবাজি আহিরের। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া সেই দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে নেটিজেনদের রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার জোগাড়।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ এপ্রিল হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগে। জ্যোতি ওই হাসপাতালে ঠিকাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। জানা গিয়েছে, অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম বা ভারি মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ওই লিফটটি ঠিক কোন তলায় আছে, তা দেখার জন্য গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ঝুঁকে নিচের দিকে তাকিয়েছিলেন জ্যোতি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওপর থেকে দ্রুত গতিতে নেমে আসে লিফটটি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি সটান জ্যোতির মাথার ওপর চেপে বসে। লিফটের নিচে মাথা আটকে গিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, জ্যোতিকে ওই অবস্থায় ছটফট করতে দেখে এক কর্মী চিৎকার করে বাকিদের ডাকছেন। ছুটে আসেন হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীরা। সকলে মিলে লিফটটিকে ওপরে ঠেলে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। বেশ কিছুক্ষণের যন্ত্রণাদায়ক প্রচেষ্টার পর তাঁকে বের করা সম্ভব হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জ্যোতিকে ওই হাসপাতালেরই আইসিইউ-তে (ICU) ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। হাসপাতালের পরিকাঠামো বা লিফট পরিচালনায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খোদ হাসপাতালেই এক কর্মীর এমন ভয়াবহ মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।