ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের বাজারে মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ এখন সিএনজি (CNG) গাড়ি। মাইলেজ এবং সাশ্রয়—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে বর্তমানে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে সিএনজি সেগমেন্টের দখল রয়েছে মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস এবং হুন্ডাইয়ের হাতে। কিন্তু এবার এই প্রতিযোগিতায় বড়সড় ধাক্কা দিতে প্রস্তুত মাহিন্দ্রা। তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রিমিয়াম SUV, XUV 3XO-এর সিএনজি সংস্করণ নিয়ে আসার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে সংস্থাটি।
কেমন হবে XUV 3XO CNG-এর পারফরম্যান্স?
বর্তমানে মাহিন্দ্রা XUV 3XO পেট্রোল, ডিজেল এবং ইলেকট্রিক ভার্সনে পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, আসন্ন সিএনজি মডেলে থাকতে পারে ১.২ লিটারের শক্তিশালী mStallion টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন। সাধারণ পেট্রোল মোডে এই ইঞ্জিন ১১২ পিএস পাওয়ার এবং ২০০ এনএম টর্ক উৎপাদন করে। সিএনজি ভার্সনে এটি ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সঙ্গে বাজারে আসতে পারে। সাধারণত সিএনজি গাড়িতে কিছুটা পাওয়ার কমলেও, টার্বো ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে এটি গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতায় বড় কোনও পরিবর্তন আনবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্মার্ট স্টোরেজ ও আধুনিক প্রযুক্তি:
সিএনজি গাড়ির ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা হলো বুট স্পেস বা ডিকির জায়গা কমে যাওয়া। তবে টাটার মতো মাহিন্দ্রাও এখানে ‘ডুয়াল-সিলিন্ডার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, যাতে সিলিন্ডার থাকলেও ডিকিতে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়। এমনকি গাড়ির নিচে সিলিন্ডার বসানোর আধুনিক প্রযুক্তি নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে মাহিন্দ্রা।
প্রতিযোগিতা ও সম্ভাব্য দাম:
বাজারে টাটা নেক্সন সিএনজি এবং মারুতি ব্রেজ্জা সিএনজি-র সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে XUV 3XO-কে। নেক্সন সিএনজি-র দাম শুরু হয় প্রায় ৯.১৫ লক্ষ টাকা থেকে এবং ব্রেজ্জা সিএনজি-র রেঞ্জ ৯.১৭ লক্ষ থেকে ১১.৪৬ লক্ষ টাকার মধ্যে। মাহিন্দ্রাও তাদের নতুন মডেলের দাম ৯ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকার মধ্যেই রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের বাজারে সিএনজি গাড়ির চাহিদা বর্তমানে ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। স্কোডা বা রেনোর মতো সংস্থাগুলোও যখন সিএনজি আনার কথা ভাবছে, তখন বছরের শেষ দিকে মাহিন্দ্রার এই এন্ট্রি সিএনজি গাড়ির বাজারে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারে।





