দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে চূড়ান্ত উত্তেজনা। রবিবার রাতে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গুলিবিদ্ধ হন জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ান। এই ঘটনায় সোমবার ভোরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ধৃতদের মধ্যে একজনকে ঘরের খাটের তলা থেকে পাকড়াও করা হয়েছে।
রবিবার রাতে জগদ্দলের আটচালা বাগানে দু’পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তর দাবি, তাঁদের কর্মীদের ওপর প্রথমে চড়াও হয়েছিল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সংঘর্ষ চলাকালীন জগদ্দল থানার অদূরে অর্জুন-পুত্র পবন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই গুলিবৃষ্টির মাঝেই যোগেশ শর্মা নামে এক সিআইএসএফ জওয়ানের পায়ে গুলি লাগে। বর্তমানে তিনি কলকাতার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার সকালেই অভিযুক্ত ১৫ জনের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। অভিযানে কৌশিক দাস (২৭), সিকান্দার প্রসাদ (৩৯), গোপাল রাউত এবং শ্যামদেব সাউ (৫৫) নামে চার তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে বাকি অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। বর্তমানে গোটা এলাকা থমথমে, মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের দাবি, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর মেগা জনসভা বানচাল করতেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজেশ কুমার এবং পবন সিংকে খুনের ষড়যন্ত্র ছিল এটি।” অন্যদিকে, নির্বাচনের মুখে এই হিংসার ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশকের (DG) কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। মোদীর সভার আগে জগদ্দলের এই বারুদ ঠাসা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।





