দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মেজাজ বদলে ফেলল নির্বাচন কমিশন। আর শুধু শোকজ বা বদলি নয়, এবার কর্তব্যে গাফিলতি হলে পুলিশ আধিকারিকদের সরাসরি ‘নজিরবিহীন শাস্তি’র মুখে ফেলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হল। রবিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে সমস্ত জেলার এসপি, ওসি এবং আইসি-দের এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন: সরাসরি ব্যবস্থা
কমিশন সূত্রে খবর, কোনও এলাকায় যদি বিস্ফোরক উদ্ধার হয় কিংবা কোনও ভোটারকে ভয় দেখানোর অভিযোগ আসে, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা আইসি-কে তার দায় নিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে। যদি দেখা যায় কেউ কাজ এড়িয়ে যাচ্ছেন বা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করছেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
বৈঠকের মধ্যমণি সুব্রত গুপ্ত
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তাঁর উপস্থিতিতেই কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) ও পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট যাতে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে হয়, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
নিশানায় আইন-শৃঙ্খলা
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে:
এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে হবে।
পুরানো মামলার আসামি বা যারা ভোট ভণ্ডুল করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে।
পুলিশের কোনও স্তরে গাফিলতি ধরা পড়লে রেহাই পাবেন না বড় কর্তারাও।
ভোটের উত্তাপে রাজনৈতিক দলগুলোর লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন কমিশনের এই ‘অ্যাকশন মোড’ পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, দ্বিতীয় দফার মহারণে কমিশনের এই হুঁশিয়ারি কতটা প্রভাব ফেলে।





