সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবিরের সবথেকে উজ্জ্বল এবং ‘আক্রমণাত্মক’ মুখটির নাম হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। একদা কংগ্রেসের এই হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কার্যত বদলে দিয়েছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র। এবার তাঁর সেই ‘ম্যাজিক’ এবং আগ্রাসী মেজাজকেই হাতিয়ার করে বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যেই ওড়িশা ও বিহারের নির্বাচনে হিমন্তের রণকৌশল সফল হয়েছে। ওড়িশায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয় হোক বা বিহারে নীতীশ কুমারকে পিছনে ফেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ— নেপথ্য কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে হিমন্তের নাম। বর্তমানে বিহারের কুর্সিতে সম্রাট চৌধুরীর বসা বা ওড়িশায় সরকার গঠন, হিমন্তের সাংগঠনিক দক্ষতারই প্রমাণ। এবার তাঁর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে রাজ্যজুড়ে ঝড় তুলছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হিমন্ত কেবল একজন সুশাসকই নন, বরং একজন তুখোড় বাগ্মী। তাঁর ‘অসম মডেল’ আজ জাতীয় স্তরে আলোচিত। গোবলয়ের রাজনীতিক না হয়েও দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে যেভাবে তাঁর গুরুত্ব বাড়ছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে কেবল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, গোটা ভারতের এক প্রভাবশালী মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। বাংলা নির্বাচনে হিমন্তের এই উপস্থিতি নিছক প্রচার নয়, বরং রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া তুলতে বিজেপির এক অত্যন্ত সুপরিকল্পিত চাল।





