রাজ্যের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)-এর সদস্য তথা অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। শুভেন্দুর অভিযোগ, একটি সাংবিধানিক পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও দিগন্ত বাগচী প্রকাশ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি এবং সাংবিধানিক মর্যাদাকে লঙ্ঘন করে।
ঠিক কী অভিযোগ শুভেন্দুর?
বিরোধী দলনেতা তাঁর ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ছবি শেয়ার করেছেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুর উপনির্বাচনের সময় তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত একটি জনসভায় মঞ্চে দেখা গেছে দিগন্ত বাগচীকে। শুভেন্দুর কড়া প্রশ্ন, “যাঁদের কাজ রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ করা, তাঁরাই যদি তৃণমূলের ক্যাডারের মতো আচরণ করেন, তবে সাধারণ মানুষ তথা চাকরিপ্রার্থীরা এই ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখবে কীভাবে?”
গণতন্ত্রের অবক্ষয় ও কমিশনের নিরপেক্ষতা:
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই ঘটনা শুধু যে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC) লঙ্ঘন করছে তাই নয়, এটি প্রশাসনিক শালীনতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, প্রশাসনের একটি বড় অংশ সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে কাজ করছে বলেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বার বার অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্যসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ঘাসফুল শিবিরের একটি অংশের দাবি, বিরোধীরা নির্বাচনী ফায়দা তুলতেই একজন ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে কুৎসা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, বছরের পর বছর পিএসসি-র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এই ছবি প্রকাশ্যে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতির আবহে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি রাজ্যের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিকে আরও কালিমালিপ্ত করতে পারে।





