রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের নৃশংস খুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুললেন তিনি। শহরে যখন কেজরিওয়াল ও তেজস্বী যাদব নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন রাহুল।
তৃণমূলকে তোপ রাহুলের:
আসানসোলের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, তৃণমূল-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে। তিনি সাফ জানান, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, বরং সেখানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” রাহুলের দাবি, নির্বাচনের পর বিরোধী কণ্ঠস্বর চেপে ধরতে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও খুনের রাজনীতি চালাচ্ছে শাসক দল। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেস হিংসায় বিশ্বাস করে না, কিন্তু নিজ কর্মীদের ওপর এই আক্রমণ আমরা মুখ বুজে সহ্য করব না।”
দাবি ও হুঁশিয়ারি:
কংগ্রেস নেতা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মৃতের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার দাবি তুলে তিনি বলেন, অতীতেও কংগ্রেস কর্মী হারিয়েছে, কিন্তু দল কখনও সংবিধান ও অহিংসার পথ ত্যাগ করেনি। ভারতের অহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে রক্ষা করার ডাক দেন তিনি।
পাল্টা জবাব মলয় ঘটকের:
অন্যদিকে, আসানসোল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, “যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে দেওয়া উচিত। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই সত্য সামনে আসবে।” রাহুলের এই মন্তব্যকে ঘিরে আপাতত সরগরম আসানসোল সহ গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।





