কলকাতায় ঢুকলেই দিতে হবে জবাব! লজ থেকে গেস্ট হাউস— নগরপালের নির্দেশে হাই অ্যালার্টে তিলোত্তমা

বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধের আগে তিলোত্তমাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে মরিয়া লালবাজার। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর এবার শহরের ছোট-বড় সমস্ত হোটেল, লজ এবং গেস্ট হাউসকে কড়া নজরদারির আওতায় নিয়ে এল কলকাতা পুলিশ। বহিরাগতদের মাধ্যমে যাতে কোনোভাবে অশান্তি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘হাই অ্যালার্ট’।

হোটেল-লজে বিশেষ নির্দেশিকা

কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ শহরের প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিজ নিজ এলাকার সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউসের ওপর কড়াকড়ি করতে হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

  • পরিচয় যাচাই: কে কোথা থেকে আসছেন এবং কেন থাকছেন, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

  • তথ্য শেয়ার: প্রতিটি অতিথির বৈধ পরিচয়পত্রের কপি স্থানীয় থানায় নিয়মিত জমা দিতে হবে।

  • সস্তার লজে নজর: বিশেষ করে সস্তার গেস্ট হাউস বা লজ, যেখানে পরিচয় যাচাইয়ে সাধারণত ঢিলেঢালা ভাব থাকে, সেখানে এবার পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

রাস্তায় আইপিএস অফিসারদের পাহারা

শুধু হোটেল নয়, শহরের প্রবেশপথগুলোতেও বসানো হয়েছে দুর্ভেদ্য পাহারা। লালবাজার সূত্রে খবর:

  • নাকা তল্লাশি: রাত বাড়লেই শহরের মোড়ে মোড়ে শুরু হচ্ছে নাকা চেকিং।

  • তদারকিতে আইপিএস: নজরদারিতে যাতে কোনো ফাঁক না থাকে, তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টে দু’জন করে আইপিএস আধিকারিককে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • নজরদারি পয়েন্ট: হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন, ধর্মতলা বাস টার্মিনাস এবং শহরের এন্ট্রি পয়েন্টগুলোতে মোবাইল পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে।

লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ভোট

লালবাজারের এক শীর্ষ আধিকারিকের মতে, ভোটের সময় শহরে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কোনো অপরাধী যাতে সাধারণ অতিথির ছদ্মবেশে শহরে আশ্রয় নিয়ে অশান্তি পাকাতে না পারে, সেটাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানার পুলিশ আধিকারিকরা হোটেল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে দিয়েছেন।

এক কথায়, ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে কলকাতাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে কোনো খামতি রাখছে না প্রশাসন।