ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দ। এবার লড়াইয়ের কেন্দ্রে সরাসরি বাংলার গর্ব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বারুইপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাদবপুরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অরাজকতা’ বলে আক্রমণ করতেই ফুঁসে উঠল ক্যাম্পাস। অধ্যাপক থেকে শুরু করে প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়ারা একযোগে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্টি ও ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনার ‘পরামর্শ’ দিলেন।
মোদির তোপ ও অরাজকতার অভিযোগ: শুক্রবার এক প্রচার সভা থেকে মোদি অভিযোগ করেন, “একসময় যাদবপুরের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে নেওয়া হতো। কিন্তু আজ সেখানে অরাজকতা চলছে। পড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলনে নামানো হচ্ছে। আমরা এমন শিক্ষার পরিবেশ চাই না।”
পালটা জবাবে ‘কালো পতাকা’ ও ‘উপহার’: প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। ছাত্র নেতা পাভেলের সাফ কথা, “বিজেপি বা আরএসএস আজও ক্যাম্পাসে বিষদাঁত ফোটাতে পারেনি বলেই প্রধানমন্ত্রীর এত রাগ। তিনি ক্যাম্পাসে আসুন, আমরা তাঁকে স্বাগত জানাব। উপহার হিসেবে তিনি কী পাবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য আর সেইসব প্রান্তিক ছাত্রদের পক্ষ থেকে একটি কালো পতাকা।”
র্যাঙ্কিং ও ফান্ডের লড়াই: তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও (JUTA) মোদির মন্তব্যে অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছেন। অধ্যাপক মনোজিৎ মণ্ডল সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব র্যাঙ্কিংয়েই (NIRF) যাদবপুর দেশের এক নম্বর স্টেট ইউনিভার্সিটি। তাহলে কোন যুক্তিতে একে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দেগে দেওয়া হচ্ছে? ওঁর অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
সংক্ষেপে বিতর্কের মূল পয়েন্টগুলো:
বঞ্চনার অভিযোগ: শিক্ষাবিদদের দাবি, ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’-এর শর্ত পূরণ করলেও কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। গবেষণা ও পরিকাঠামোর ফান্ড আটকে রাখা হয়েছে।
ইতিহাসের স্মৃতিচারণ: শিক্ষক সমিতি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের গর্ভেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম। এর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাসকে অস্বীকার করার শামিল।
শিক্ষা বনাম রাজনীতি: তৃণমূলের দাবি, নেট (NET) বা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যাদের স্বচ্ছতা নেই, তাদের মুখে যাদবপুরের শিক্ষা নিয়ে কথা মানায় না।
উপসংহার: নির্বাচনের ময়দানে যাদবপুরকে টেনে আনাকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরের ক্ষোভ বুঝিয়ে দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনীতির অঙ্গন আরও উত্তপ্ত থাকবে।





