ফের নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শিরোনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার তাঁর নিশানায় খোদ ‘বন্ধু’ ভারত। ভারতকে ‘নরক’ বলে বর্ণনা করে সমাজমাধ্যমে এক কুরুচিকর পোস্ট শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এই ঔদ্ধত্যের মোক্ষম জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ এবং ‘অনভিপ্রেত’ বলে চরম কটাক্ষ করা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? সম্প্রতি মাইকেল স্যাভেজ নামে এক রেডিও সঞ্চালকের একটি পোস্ট নিজের সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ভারত ও চীনকে অত্যন্ত নিচু চোখে দেখার পাশাপাশি ভারতকে ‘নরক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের প্রোফাইল থেকে এমন বর্ণবিদ্বেষী প্রচার আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
দিল্লির কড়া জবাব ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিলেও সাফ জানিয়েছেন, “এই ধরনের মন্তব্য ভারত ও আমেরিকার গভীর সম্পর্কের আসল ছবি নয়। আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।” কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পকে ‘অজ্ঞ’ বলে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত এখন আর কোনো অপমান মুখ বুজে সইবে না।
ভ্যাম ড্যামেজ কন্ট্রোলে মার্কিন দূতাবাস! বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে দিল্লির মার্কিন দূতাবাস। তড়িঘড়ি তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাম্প ভারতকে তাঁর ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ মনে করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘পরম মিত্র’। তবে দূতাবাসের এই সাফাইতে খুব একটা চিড়ে ভেজেনি।
ক্ষুব্ধ ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ট্রাম্পের এই আচরণের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ‘হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন’। তাদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো পদে থেকে এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষী প্রচারকে মদত দেওয়া বিপজ্জনক। এতে আমেরিকায় থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীসহ ভারতের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের এই ‘দ্বিমুখী’ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
মোদীর সাথে ‘বন্ধুত্বে’র দোহাই দিলেও ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্দরে যে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





