ভারতীয়দের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ট্রাম্পের! আমেরিকার সাফল্যে কুঠারাঘাত? গর্জে উঠল দিল্লি

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর শোকাচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যেই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতকে ‘নরক’ বলে অভিহিত করা এবং ভারতীয়দের নিয়ে বর্ণবাদী ভিডিও শেয়ার করে খোদ নিজের দেশেই কাঠগড়ায় ট্রাম্প। এই ঘটনায় দিল্লির ক্ষোভের পাশাপাশি মার্কিন ডেমোক্র্যাটরাও তাঁকে ছেড়ে কথা বলেনি।

কী ছিল সেই বিতর্কিত ভিডিওতে?

মাইকেল সেভেজ নামে এক কট্টরপন্থী রেডিও সঞ্চালকের একটি ভিডিও নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করেন ট্রাম্প। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে:

  • ভারত ও চীনের মতো ‘নরক’ থেকে গর্ভবতী মহিলারা শেষ মুহূর্তে আমেরিকায় আসেন কেবল সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে।

  • ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর ও বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেই ভিডিওতে।

  • ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘প্রেসিডেন্সি পদের মর্যাদাহানি’ বলে দাবি করেছেন বিরোধীরা।

‘নিম্নরুচির কাজ’: কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি

ট্রাম্পের এই ভিডিও শেয়ারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একে ‘অত্যন্ত নিম্নরুচির’ এবং ‘ভুল তথ্যে ভরা’ কাজ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই ধরণের মন্তব্য দুই দেশের গভীর সম্পর্কের বাস্তবতাকে বিন্দুমাত্র প্রতিফলিত করে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন দূতাবাস ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু করলেও নয়াদিল্লি তাতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

মোদীর নীরবতা নিয়ে তোপ কংগ্রেসের

এদিকে দেশের অপমানেও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, “মোদীজি কার ভয়ে চুপ? ট্রাম্প ভারতকে গালি দিচ্ছেন আর আপনি প্রতিবাদ করছেন না কেন? আমেরিকার অর্থনীতি ও সাফল্যে ভারতীয়রা সবথেকে বেশি অবদান রাখে, তবুও কেন সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিবাদ হচ্ছে না?” খাড়গের অভিযোগ, বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে ভারতের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

আমেরিকায় ট্রাম্প বিরোধী হাওয়া

মার্কিন হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পকে ধুয়ে দিয়ে বলেছেন, দেশ যখন যুদ্ধের কবলে, হাজার হাজার আমেরিকান বিপদে, তখন প্রেসিডেন্ট বর্ণবাদী আবর্জনা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট পদটাকে তিনি যেন স্রেফ একটি রিয়্যালিটি শো-র আসর বানিয়ে ফেলেছেন।

ইরান যুদ্ধ এবং আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আবহে ট্রাম্পের এই ‘ভারত বিরোধী’ অবস্থান আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy