হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের জনসভা থেকে মেজাজ হারালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দফার ভোট মিটতেই জয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে বড় দাবি করার পাশাপাশি বিজেপিকে ‘চোর-ডাকাতদের দল’ বলে তোপ দাগলেন তিনি।
“আমি জ্যোতিষী নই, কিন্তু আমার কথা মেলে”
নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই অভিষেক দাবি করেন, তিনি কটা আসনে জিতবেন তা নিয়ে সচরাচর মুখ খোলেন না। কিন্তু ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ মনে করিয়ে দেন, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে তাঁর করা প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছিল। তাঁর দাবি:
প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি: অভিষেকের মতে, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল কংগ্রেস ১০০-র বেশি আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে।
বিজেপি চাপে: তাঁর দাবি, প্রথম দফার ট্রেন্ড দেখেই দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব চরম উদ্বেগে রয়েছে।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, একই দিনে কুণাল ঘোষ ১৩৫টি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১২৫টি আসনে জয়ের দাবি করেছেন। অন্যদিকে অমিত শাহের দাবি, বিজেপি ১১০টির বেশি আসনে জিতছে।
“বিজেপি করলে মানুষ ভালো হওয়া যায় না”
এদিনের সভা থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণের পথেও হাঁটেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যাঁরা বিজেপির রাজনীতি করেন, তাঁরা মানুষ হিসেবে ভালো নন।” তাঁর প্রশ্ন, কোনো শিক্ষিত বা মার্জিত লোক কি বর্তমান সময়ে বিজেপি করতে পারে?
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ:
“আগে অপরাধীরা জেলে যেত, এখন তারা বিজেপিতে যোগ দেয়। যত চোর, জোচ্চোর, বেইমান আর গদ্দার সব এখন বিজেপির ছাতার তলায়।”
জগৎবল্লভপুরের প্রার্থী নিয়ে ‘ডাস্টবিন’ কটাক্ষ
স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরাকে সরাসরি ‘তৃণমূলের আবর্জনা’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “তৃণমূল যে আবর্জনাগুলো ময়লার বালতিতে ফেলে দিচ্ছে, অমিত শাহরা সেগুলো কুড়িয়ে জগাখিচুড়ি বানাচ্ছে। সেই এক্সপায়ারড মাল খেলে আপনাদের পেট খারাপ হবে!”
এদিন জগৎবল্লভপুরের প্রার্থীকে অন্তত ৫০ হাজার ভোটে জেতানোর লক্ষ্য বেঁধে দেন তিনি। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অভিষেকের এই ঝাঁঝালো বক্তৃতা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে যে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





