রাজনীতিতে ২৪ ঘণ্টা অনেক বড় সময়, কিন্তু আম আদমি পার্টির (AAP) জন্য ২৪ মিনিটই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল! সকালে যে দল গুজরাটের মাটি থেকে বিজেপিকে ‘মুছে দেওয়ার’ হুঙ্কার দিয়েছিল, দুপুরের চড়া রোদে সেই দলেরই ঘর ভাঙল ঝড়ের গতিতে।
সকালেই ছিল আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে
বুধবার সকালে গুজরাটের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে দিল্লির প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া দাবি করেছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে আম আদমি। জনতার রায় তাঁদের দিকেই—এই আত্মবিশ্বাসে যখন আপ কর্মীরা ফুটছিলেন, তখনই দিল্লি থেকে এল চরম দুঃসংবাদ।
দুপুরের নাটকে ‘ক্লিন বোল্ড’ কেজরিওয়াল?
সিসোদিয়ার ভাষণের রেশ কাটতে না কাটতেই জানা যায়, দলের অন্যতম মুখ রাঘব চাড্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তবে ধাক্কাটা শুধু রাঘবকে নিয়ে নয়, খবর চাউর হয়েছে যে রাজ্যসভার অন্তত ৭ জন সাংসদ আপ-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
একনজরে আপ-এর বর্তমান সংকট:
সংখ্যাগত বিপর্যয়: রাজ্যসভায় ১০ জন সাংসদ নিয়ে যে দাপট ছিল আপ-এর, তা এখন তলানিতে।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা: সঞ্জয় সিংয়ের মতো পোড়খাওয়া নেতা থাকা সত্ত্বেও কেন এই গণ-ইস্তফা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এই ভাঙনের আসল কারণ।
“নিজেদের ঘর সামলাতে না পেরে যারা অন্য রাজ্য জয়ের দিবা স্বপ্ন দেখে, তাদের এই পরিণতিই পাওনা ছিল।” — কটাক্ষ বিজেপি শিবিরের।
সাফাই দিচ্ছে আম আদমি পার্টি
এত বড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও অবশ্য হার মানতে নারাজ আপ শিবির। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাঙনের খবরটি ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হচ্ছে। বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে আপ-এর জয়যাত্রা রুখতে চাইছে।
তবে রাজনীতির কারবারিরা বলছেন অন্য কথা। সকালে যারা আক্রমণকারী ছিল, বিকেলের মধ্যে তারা রক্ষণাত্মক মোডে চলে আসায় ২০২৬-এর লড়াইটা দিল্লির জন্য আরও কঠিন হয়ে গেল।





