ভারত মহাসাগরে ভারতের দাপট এবার কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে। শত্রুপক্ষের ঘুম উড়িয়ে জার্মানির সঙ্গে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকা) মেগা সাবমেরিন চুক্তি চূড়ান্ত করতে চলেছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সিলমোহর পড়তে পারে।
প্রজেক্ট ৭৫(আই): কী থাকছে এই চুক্তিতে? জার্মান কোম্পানি ‘থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস’ (TKMS) এবং ভারতের ‘মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স’ (MDL) যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এই চুক্তির আওতায় ৬টি অত্যাধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন তৈরি করা হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এই সাবমেরিনগুলো ভারতেই নির্মিত হবে।
কেন এই সাবমেরিন ‘গেম চেঞ্জার’? নতুন এই সাবমেরিনগুলো হবে ঘাতক এবং নিঃশব্দ। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
এআইপি প্রযুক্তি: এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিনগুলো বারবার উপরে না এসে দীর্ঘ সময় জলের নিচে লুকিয়ে থাকতে পারবে।
অদৃশ্য ক্ষমতা (Stealth): এদের নকশা এমনভাবে তৈরি যে শত্রুর রাডার বা সোনার এদের হদিস পাবে না।
অত্যাধুনিক অস্ত্র: এতে থাকছে শক্তিশালী টর্পেডো এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, যা নিমেষেই শত্রু জাহাজকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
চিন ও পাকিস্তানের উদ্বেগ বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহর বেশ পুরনো। অন্যদিকে চিন ক্রমাগত ভারত মহাসাগরে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জার্মানির এই উন্নত প্রযুক্তির সাবমেরিন হাতে আসলে ভারত মহাসাগরে ভারতের আধিপত্য প্রশ্নাতীত হয়ে উঠবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি বড় দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে।
আত্মনির্ভর ভারত এই প্রকল্পের ফলে ভারত শুধু প্রযুক্তিই পাবে না, বরং দেশীয়ভাবে সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতাও বাড়বে। প্রকল্পের শেষে প্রায় ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ ভারতেই তৈরি হবে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির (CCS) অনুমোদনের পরই শুরু হবে এই মেগা প্রকল্পের কাজ। মে মাসের শুরুতেই এই নিয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে।





