প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই শুরু হয়েছে সংখ্যার লড়াই। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আত্মবিশ্বাসী দাবি, তো অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের নির্বাচনী সভা থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন অভিষেক।
শাহের ‘১১০’ বনাম অভিষেকের ‘সেঞ্চুরি’ এদিন সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ইতিমধ্যেই ১১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জগৎবল্লভপুর থেকে পাল্টা তোপ দাগেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমি সাধারণত রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই, কিন্তু আমার করা ভবিষ্যৎবাণী হুবহু মিলে যায়। আমি বলে যাচ্ছি, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল কংগ্রেস সেঞ্চুরি পার করে গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যে কার্যত উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।
“আপনি একটু ঠান্ডা জল খান!” অমিত শাহের আক্রমণাত্মক মেজাজের জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক এদিন বেশ রসিক অথচ কড়া মন্তব্য করেন। শাহের ‘উল্টো ঝুলিয়ে দেওয়ার’ হুমকির প্রেক্ষিতে অভিষেক সরাসরি বলেন, “এখানে খুব গরম, আপনি একটু ঠান্ডা জল খান, মাথা ঠান্ডা রাখুন।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে কেউ বাঙালিদের হুমকি দিলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
৪ঠা জুনের চ্যালেঞ্জ জগৎবল্লভপুরের প্রার্থী সুবীর চট্টোপাধ্যায় এবং ডোমজুড়ের প্রার্থী তাপস মাইতির সমর্থনে করা এই সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দিল্লির রাজনীতি বাংলার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “৪ তারিখ (ফলাফলের দিন) দেখা হবে। বাংলা তার নিজের অধিকার ছিনিয়ে নিতে জানে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দফার ভোট শেষ হতে না হতেই দুই শিবিরের এই ‘নাম্বার গেম’ আসলে ভোটারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলার কৌশল। এখন দেখার, ৪ঠা জুন কার দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়।





