উৎসবের মেজাজ ফিকে হয়ে গেল এক তরুণীর চোখের জলে। গণতন্ত্রের উৎসবে প্রথমবার শামিল হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। কিন্তু সরকারি আধিকারিকের চূড়ান্ত গাফিলতিতে সেই স্বপ্ন নিমেষেই চুরমার। নাম বিভ্রাটের জেরে ভোটদান থেকে বঞ্চিত হলেন মালদার চাঁচল থানার সিহিপুর গ্রামের তরুণী হুশনারা বেগম। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা।
ভোট মিটতেই বাড়িতে পৌঁছাল স্লিপ! ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। অভিযোগ, ভোটের দিন বারবার ভোটার স্লিপ চেয়েও পাননি হুশনারা। বুথ লেভেল অফিসার (BLO) আক্তার হোসেন তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় হুশনারার নামই নেই! বাধ্য হয়েই ক্ষোভ চেপে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু নাটকের আসল মোড় ঘোরে আজ সকালে। হঠাৎ করেই ওই আধিকারিক হুশনারার বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে ভোটার স্লিপ ধরিয়ে দেন! যা দেখে হতবাক হয়ে যান গ্রামের মানুষ।
বিস্ফোরক অভিযোগ তরুণীর: অভিমানী হুশনারা বেগম জানান:
“বারবার গিয়ে স্লিপ চেয়েছি, তখন আমায় তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ ভোট মিটে যাওয়ার পর এসে স্লিপ দেওয়া হচ্ছে! আমার জীবনের প্রথম ভোটটা আমি দিতে পারলাম না। এর দায় কে নেবে?”
গ্রামবাসীদের গণবিক্ষোভ: এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে ঘেরাও করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল হতে হয় পুলিশকেও। গ্রামবাসীদের দাবি, এমন অযোগ্য কর্মীর কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
নিজের ভুল স্বীকার বিএলও-র: চাপের মুখে নতিস্বীকার করেছেন বিএলও আক্তার হোসেন। তাঁর দাবি:
গ্রামে একই নামের দু’জন মহিলা থাকায় নামের বিভ্রাট ঘটেছিল।
অসাবধানতাবশত ভুল হয়ে যাওয়ায় তিনি দুঃখিত।
গণতন্ত্রের ওপর আঘাত? প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ হারিয়ে হুশনারা এখন বিচার চাইছেন। জেলা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে নাম সংশোধনের এত কড়াকড়ি, সেখানে এমন ‘ভুল’ কি আদতে অনিচ্ছাকৃত, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য?





