বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মানেই রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির এক অমোঘ আকর্ষণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উঁচু এই শৃঙ্গটি হিমালয় পর্বতমালায় নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আজ আমরা একে যে নামে চিনি, অতীতে এর পরিচয় কিন্তু এমন ছিল না।
উনিশ শতকে ব্রিটিশ জরিপকারীরা যখন প্রথমবার এই পর্বতের উচ্চতা পরিমাপ করেন, তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল “পিক XV” (Peak XV)। ১৮৬৫ সালে রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি এই শৃঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল স্যার জর্জ এভারেস্টের সম্মানে ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ রাখে। স্যার জর্জ ছিলেন একজন কিংবদন্তি ব্রিটিশ ভূগোলবিদ, যাঁর হাত ধরে আধুনিক ভারতের মানচিত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।
এক পর্বত, অনেক নাম:
মাউন্ট এভারেস্টের নামের বৈচিত্র্যই এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলে। তিব্বতি ভাষায় এর নাম ‘চোমোলুংমা’, যার অর্থ ‘বিশ্বের জননী’। অন্যদিকে, নেপালিরা একে ডাকেন ‘সাগরমাথা’ নামে, যার অর্থ ‘আকাশের কপাল’।
জয়ের ইতিহাস ও ‘ডেথ জোন’:
১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে প্রথম মানুষ হিসেবে এই শৃঙ্গ জয় করে ইতিহাস গড়েন। তবে এই জয় মোটেও সহজ নয়। ৮,০০০ মিটারের ওপরের অংশকে বলা হয় ‘ডেথ জোন’। এখানে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম যে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মানুষের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং হাড়কাঁপানো হাওয়া এই অভিযানকে বিশ্বের অন্যতম বিপদসংকুল অ্যাডভেঞ্চারে পরিণত করেছে।





