২৩-এর মহাযুদ্ধের আগে কড়া অ্যাকশন! রাতভর ধরপাকড় বঙ্গে, ভয়েই আত্মসমর্পণ ডজন ডজন ‘মাসলম্যান’-এর

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে রীতমতো ‘ক্লিন ড্রাইভ’ শুরু করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ। কমিশনের কড়া নির্দেশে গত কয়েক ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ধরপাকড় চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯৯ জন দাগি অপরাধীকে। পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে অপরাধ জগতে।

টার্গেটে ‘হিস্ট্রি শিটার’, জেলায় জেলায় অভিযান

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই খুন, অস্ত্র পাচার এবং অতীতে বুথ দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের চাপে কোণঠাসা হয়ে অনেক ‘হিস্ট্রি শিটার’ বা পুরনো অপরাধী নিজেরাই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— ভোটের দিন কোনও ‘বাহুবলী’ বা ‘মাসলম্যান’ যেন সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে।

প্রথম দফায় অগ্নিপরীক্ষা: নজরদারিতে এআই এবং বডি-ক্যাম

আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই বিশাল কর্মকাণ্ড সামলাতে প্রযুক্তিকেও হাতিয়ার করছে কমিশন।

  • এআই নজরদারি: বুথ ও স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • বডি-ক্যাম: কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের শরীরে থাকছে বডি-ক্যামেরা, যাতে প্রতি মুহূর্তের ফুটেজ রেকর্ড থাকে।

  • কিউআরটি মোতায়েন: যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (QRT) সদাপ্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাজেয়াপ্ত কয়েকশো কোটি, সীমান্তে হাই-অ্যালার্ট

শুধু ধরপাকড়ই নয়, ভোট কিনতে টাকার খেলা রুখতেও কড়া কমিশন। ইতিমধ্যেই তল্লাশিতে কয়েকশো কোটি টাকার নগদ, মদ এবং ড্রাগস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে বহিরাগতরা ভোটের অশান্তি না ছড়াতে পারে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে এই গণ-গ্রেফতারিকে ‘একতরফা’ বলে সুর চড়িয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, কোনও রাজনৈতিক রং দেখে নয়, অপরাধের পুরনো রেকর্ড এবং বর্তমান গতিবিধির ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে দুই দফায় (২৩ ও ২৯ এপ্রিল)। আর তার আগে এই মেগা ধরপাকড় নিশ্চিতভাবেই ভোটের ময়দানে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy