উত্তরপ্রদেশের ঔরাইয়া জেলায় একটি আনন্দময় বিয়ের অনুষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে শ্মশানের নিস্তব্ধতায় পর্যবসিত হলো। অপরাধ? কেবল নিমন্ত্রণ ছাড়া বিয়েবাড়িতে খেতে ঢুকেছিলেন এক যুবক। আর সেই ‘অপরাধেই’ একদল উন্মত্ত মানুষের গণপিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। উৎসবের আলো আর ব্যান্ডের শব্দের মাঝেই ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতা এখন ভারতের সামাজিক সংবেদনশীলতার দিকে আঙুল তুলছে।
উৎসবের মেজাজ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ:
ঘটনাটি ঘটেছে সদর কোতোয়ালি এলাকার কানপুর রোডে অবস্থিত হরলাল ধাম গেস্ট হাউসে। বিয়ের জমকালো আয়োজনের মাঝেই এক যুবক নিঃশব্দে ঢুকে খাবার খেতে শুরু করেন। প্রথমে কেউ লক্ষ্য না করলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু অভ্যাগতের সন্দেহ হয়। তাকে পরিচয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ব্যাস, এই সামান্য কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে উপস্থিত একদল লোক। কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয় এলোপাথাড়ি চড়, লাথি ও ঘুষি। মারধরের চোটে গুরুতর আহত হয়ে নিথর অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক।
পুলিশি তৎপরতা ও বয়ান:
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। আহত যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ক্রাইম ইন্সপেক্টর সত্যপ্রকাশ জানান, ওই যুবক ভবঘুরে হতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদের প্রাথমিক পর্যায়ে যুবকটি জানিয়েছিলেন যে তিনি কাঁচা মদ পান করেছিলেন, যার ফলে হয়তো অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন। পুলিশ বর্তমানে একটি লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
খিদের অন্ন কি তবে প্রাণের চেয়েও দামী?
এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং সমাজের পচনশীল মানসিকতাকে প্রতিফলিত করছে। ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতি করুণার বদলে এমন চরম হিংস্রতা কেন? স্রেফ একবেলা খাবারের জন্য কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা কি কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে? পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হলেই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





