রাজস্থানের হনুমানগড় জেলায় রাজস্থান এটিএস (Anti-Terror Squad) এবং জেলা পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে এক চাঞ্চল্যকর জাল আধার চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। ভদ্রা এলাকায় পৌর কর্পোরেশনের নাকের ডগায় চলা এই অবৈধ কারবার শুধুমাত্র নথি জালিয়াতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাইবার অপরাধ, পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং সম্ভাব্য দেশবিরোধী কার্যকলাপের গভীর ষড়যন্ত্র। পুলিশ এই চক্রের প্রধান পাণ্ডা কুলদীপ শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে।
বায়োমেট্রিক জালিয়াতির রোমহর্ষক কৌশল:
তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা বলয় ভাঙতে বিজ্ঞানের অপব্যবহার করত। ল্যাপটপ লগ-ইন করার জন্য তারা বাটার পেপার ও সিলিকন ব্যবহার করে তৈরি করেছিল ১৫০টিরও বেশি ‘ক্লোন’ আঙুলের ছাপ (সিলিকন থাম্ব)। শুধু তাই নয়, আইরিস স্ক্যানারকে ফাঁকি দিতে কাগজে প্রিন্ট করা রেটিনার ছবি ব্যবহার করা হতো। এই অত্যাধুনিক প্রতারণার মাধ্যমে যশবন্ত ও আমির খান নামের দুই ব্যক্তির অপারেটর আইডি ব্যবহার করে হাজার হাজার জাল আধার তৈরি করা হচ্ছিল।
এটিএস-এর অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
অভিযান চালিয়ে এটিএস ১২টি ল্যাপটপ, ৫০০-র বেশি সিম কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ সিলিকন ক্লোন উদ্ধার করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাজস্থানের সাধারণ গ্রামীণ মানুষের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও, আধারে যুক্ত বায়োমেট্রিক তথ্যগুলো ছিল কাশ্মীরি সন্দেহভাজনদের। এই চক্রের জাল দিল্লি, শ্রীনগর, জয়পুর এবং বিকানের পর্যন্ত বিস্তৃত।
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র:
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, এই জাল আধার কার্ড ব্যবহার করে সিম কার্ড সংগ্রহ করা হতো, যা পরবর্তীতে কাশ্মীরে থাকা হ্যান্ডলারদের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো। এছাড়াও, এই ভুয়া নথি দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন বা ‘টেরর ফান্ডিং’-এর জোরালো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি জাল নথিতে পাসপোর্ট বানিয়ে অপরাধীদের বিদেশে পালানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে এটিএস।
বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ভূমিকা:
ডিওআইটি (DoIT) আধার অফিসের কর্মকর্তাদের ভূমিকাও এখন সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো অভ্যন্তরীণ সাহায্য ছাড়া কেন্দ্রীয় ডেটাবেস হ্যাক করা বা অপারেটর আইডি অপব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ ও এটিএস বর্তমানে বাজেয়াপ্ত হওয়া ল্যাপটপ ও ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছে, যা থেকে এই বিশাল নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের হদিস মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।





