বিদেশি মুদ্রা থেকে রহস্যজনক চ্যাট— বেহালার ব্যবসায়ীর ডেরায় যেন ক্রাইম থ্রিলার! সোনা পাপ্পুর সঙ্গে কীসের যোগ?

বেহালার ব্যবসায়ীর ডেরায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) হানা, আর তাতেই বেরিয়ে এল কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা উদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদার। সোমবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

গ্রেফতার হতেই ‘অসুস্থতা’, চলল নাটক রবিবার গ্রেফতারির পর হঠাৎই অসুস্থ বোধ করেন জয় কামদার। তাঁকে তড়িঘড়ি আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ইডি-র তৎপরতায় হাসপাতাল থেকে সোমবারই তাঁকে স্পেশাল কোর্টে হাজির করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত ধোপে টেকেনি আদালতের কাছে।

টাকার পাহাড় ও ১৫০টি রহস্যময় অ্যাকাউন্ট তদন্তে নেমে ইডি যা তথ্য পেয়েছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো:

  • টাকা উদ্ধার: ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ এবং অফিস থেকে আরও ৫০ লক্ষ— মোট ১ কোটি ৭০ লক্ষ নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • বিশাল নেটওয়ার্ক: হাওয়ালা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ১৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

  • ক্রস-বর্ডার হাওয়ালা: ইংল্যান্ড, দুবাই এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুবাই হাওয়ালা যোগের প্রমাণ মিলেছে জয়ের ফোনে। বিদেশি মুদ্রার ছবি ও সন্দেহজনক চ্যাট উদ্ধার হয়েছে তাঁর মোবাইল থেকে।

সোনা পাপ্পু কানেকশন ও আগ্নেয়াস্ত্র রহস্য বালুগঞ্জের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে জয় কামদারের নিবিড় আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ইডি-র দাবি, সোনা পাপ্পুর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল জয়ের অ্যাকাউন্টে। চাঞ্চল্যকর তথ্য এই যে, সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে যে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল, সেটির বিপণি ‘জে টি ক্যালকাটা আর্মস’-এর অন্যতম মালিক এই জয় কামদারই।

উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে চ্যাট! তদন্তকারীরা আদালতে দাবি করেছেন, ধৃত ব্যবসায়ীর ফোনে একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসারের সঙ্গে সন্দেহজনক চ্যাট পাওয়া গেছে। ডিজিটাল তথ্য সামনে রেখে এবং এই বিশাল হাওয়ালা সাম্রাজ্যের শিকড় খুঁজতে জয় কামদারকে টানা জেরা করতে চায় ইডি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy