বৈশাখের তপ্ত দুপুরে বাঙালির প্রাণ জুড়াতে পান্তা ভাতের জুড়ি নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, দক্ষিণ ভারতে পান্তার মতোই এক জাদুকরী খাবার রয়েছে যা শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হজমশক্তি বাড়াতে সিদ্ধহস্ত? নাম তার— ‘রাইস কাঞ্জি’। দেখতে অনেকটা পান্তার মতো হলেও এর গুণাগুণ এবং স্বাদ কিন্তু একেবারেই আলাদা।
কী এই রাইস কাঞ্জি? রাইস কাঞ্জি হলো মূলত ফার্মেন্টেড বা গেঁজানো চালের জল। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা ও কর্ণাটকের ঘরে ঘরে এটি সকালের প্রধান জলখাবার। তীব্র গরমে যখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তখন শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ ও জল বেরিয়ে যাওয়া রুখতে এই পানীয়কেই মহৌষধ মনে করা হয়।
উপকারিতা যা আপনাকে অবাক করবে: পুষ্টিবিদদের মতে, রাইস কাঞ্জি হলো প্রাকৃতিক ‘প্রোবায়োটিক’-এর খনি।
হজমে সহায়ক: ফার্মেন্টেশনের ফলে এতে প্রচুর উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা পেট ঠান্ডা রাখে এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দূর করে।
এনার্জি বুস্টার: এতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ইলেক্ট্রোলাইট, যা গরমেও আপনাকে রাখে সতেজ।
ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ: এটি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
তৈরির সহজ রেসিপি: এটি তৈরি করা যেমন সহজ, খরচও তেমন নগণ্য। ১. রাতে রান্না করা ভাত ঠান্ডা করে একটি মাটির পাত্রে পরিষ্কার জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। ২. সারা রাত (৮-১০ ঘণ্টা) ঢেকে রেখে ফার্মেন্ট হতে দিন। ৩. সকালে সেই ভাতের জলে সামান্য নুন, মৌরি, কারি পাতা, কাঁচালঙ্কা আর এক চামচ দই মিশিয়ে নিন। ৪. স্বাদের জন্য যোগ করতে পারেন কুচোনো ছোট পেঁয়াজ বা নারকেল কোরা।
পান্তার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? বাঙালির পান্তা সাধারণত ভাতের ওপর গুরুত্ব দেয়, কিন্তু রাইস কাঞ্জিতে চালের জলের গুণাগুণ বেশি থাকে। পান্তা আলুভর্তা বা পেঁয়াজ দিয়ে খাওয়া হলেও কাঞ্জির স্বাদ হয় সামান্য টক। দক্ষিণ ভারতে একে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়— কেরালায় ‘পেঝ’ তো কর্ণাটকে ‘মব্বে গঞ্জি’।
শহুরে জীবনেও জনপ্রিয়: বর্তমানে কোল্ড ড্রিঙ্কস বা কৃত্রিম এনার্জি ড্রিঙ্কস ছেড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এই প্রাকৃতিক পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন। সস্তায় পুষ্টি আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন রাইস কাঞ্জিকে করে তুলেছে গ্রীষ্মের সেরা সুপারফুড।
আজই ট্রাই করুন রাইস কাঞ্জি আর এই অসহ্য গরমেও নিজেকে রাখুন ফিট এবং কুল!





