আবার কি ২৬/১১-র পুনরাবৃত্তি? সমুদ্রপথে বড়সড় হামলার ছক কষছে লস্কর, চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এল গোয়েন্দাদের

২৬/১১-র সেই অভিশপ্ত মুম্বই হামলার স্মৃতি কি ফিরতে চলেছে? পহেলগাম হামলার বর্ষপূর্তির ঠিক আগে গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া এক বিস্ফোরক তথ্য ঘুম উড়িয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির। জানা গিয়েছে, কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) বালোচিস্তান অঞ্চলে তাদের নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে বিস্তার করছে এবং ফের সমুদ্রপথে হামলার নীল নকশা তৈরি করছে।
সমুদ্রপথে হামলার ব্লু-প্রিন্ট:
গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সমুদ্র উপকূল থেকে মাত্র ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে লস্কর একাধিক নতুন ‘লঞ্চ প্যাড’ তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের বিশেষ সাঁতার এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ কমান্ডো ট্রেনিং দেখে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ধাঁচে আরব সাগরকে ব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে তারা।
পাক সেনা ও লস্করের ‘প্রক্সি’ সম্পর্ক:
লস্করের ডেপুটি চিফ সইফুল্লা কাসুরির সাম্প্রতিক কোয়েটা সফর নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। ২০২৫-এর পহেলগাম হামলার মূল পাণ্ডা হিসেবে পরিচিত এই কাসুরি প্রকাশ্য মঞ্চেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও লস্করের নিবিড় সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি ২৬/১১-র মতো ফের বড় হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। বালোচিস্তানে বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) ও পাক সেনার সংঘাতের মাঝেই আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতে লস্করকে সেখানে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
রাজনৈতিক ফ্রন্ট ও নিয়োগ প্রক্রিয়া:
সিন্ধ অঞ্চলের লস্কর কমান্ডার ফয়সাল নাদিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আকিল আহমেদ লাঘারির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে। লাঘারি সরাসরি ‘পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লীগ’ (PMML)-এর সঙ্গে যুক্ত, যাকে লস্করের রাজনৈতিক মুখোশ হিসেবে ধরা হয়। তৃণমূল স্তরে সাধারণ মানুষকে মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করাই এই ফ্রন্টের আসল কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বালোচ বিদ্রোহ দমনে লস্করকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে।