বারাণসীর লঙ্কা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর চুরির কিনারা করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গায়েত্রী নগরের একটি বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপোর গয়না চুরির ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে লুঠ করা সমস্ত অলঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তদন্তকারী দল। আধুনিক প্রযুক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে চালানো এই অভিযানে পুলিশের সাফল্যে স্বস্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা।
খালি বাড়ির সুযোগ নিয়ে সাফাই অভিযান
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১শে মার্চ। গায়ত্রী নগরের এক বাসিন্দা তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে রোহতাসের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ৪ঠা এপ্রিল ফিরে এসে তিনি দেখেন, বাড়ির বাইরের গেটের তালা ঠিক থাকলেও ভেতরের তালা ভাঙা। আলমারি থেকে শুরু করে বাক্স— সবকিছুই তছনছ করা হয়েছে। চুরি হয়ে গিয়েছিল বংশপরম্পরায় আগলে রাখা পৈতৃক গয়না ও দামি পোশাক। ৫ই এপ্রিল লঙ্কা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
২৫০টি সিসিটিভি ও পুলিশের বিশেষ জাল
তদন্তে নেমে বারাণসী পুলিশ এলাকার প্রায় ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করে। অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করার পর লঙ্কা থানার পুলিশ ১৭ই এপ্রিল সীর গোবর্ধনপুরের কাশীপুরম কলোনির কাছ থেকে দুই পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হল বাজারদিহা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শারিক জামাল আনসারি (৩৮) এবং রিয়াজ আকরাম (২৭)। এদের ধরার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের ওপর ২৫,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
চোরদের অদ্ভূত দাবি: “তালা কেন লাগাননি?”
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা চুরির কথা স্বীকার করেছে। তবে মজার বিষয় হল, অপরাধীরা জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে জানায় যে, এত বড় বাড়িতে মাত্র একটি ছোট তালা লাগানো ছিল বলেই তারা সহজে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ধৃত শারিকের বিরুদ্ধে মাদক মামলা সহ একাধিক অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ৪টি হার, মঙ্গলসূত্র, ব্রেসলেট, কানের দুল, আংটি, রুপোর নূপুর সহ বিপুল পরিমাণ গয়না উদ্ধার করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।





