সংসদে প্রস্তাবিত ‘ডিলিমিটেশন বিল’ বা নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পাশ না হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, এই বিলটি আটকে দেওয়ার পেছনে বিরোধীদের এক গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ (মহিলা সংরক্ষণ বিল) পাশ হওয়ার পর থেকেই ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে আসে। ২০২৬ সালে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত সংশোধিত বিলটি পেশ করা হলেও বিরোধীদের প্রবল আপত্তিতে তা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়।
শতাব্দী রায়ের অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো:
উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ক্ষতি: শতাব্দী রায়ের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনী এলাকার পরিবর্তন না হলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিরোধীরা স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
২০২৩-এর বিলের প্রাসঙ্গিকতা: শতাব্দী মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিলের সফল বাস্তবায়নের জন্য ডিলিমিটেশন অপরিহার্য ছিল। বিরোধীরা আজ ডিলিমিটেশন আটকাতে গিয়ে পরোক্ষভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়নকেই পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ধ্বংসের চক্রান্ত: তিনি আরও বলেন, সংসদের আসন সংখ্যা বাড়ানো বা সীমানা পরিবর্তনের যে বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তাকে ‘চক্রান্ত’ বলে চালানো আসলে বিরোধীদেরই এক বৃহত্তর ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার অংশ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো এবং কংগ্রেস-সহ বিরোধী জোটের দাবি ছিল যে, ডিলিমিটেশন কার্যকর হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সফল রাজ্যগুলো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব হারাবে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি ছিল ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার।
সংসদে এই বিলটি পাশ না হওয়াকে বিজেপির পরাজয় হিসেবে দেখছে বিরোধী শিবির। তবে শতাব্দী রায়ের মতো তৃণমূল নেত্রীদের একাংশ মনে করছেন, এর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের সংসদীয় সংস্কারের গতি শ্লথ হয়ে গেল।





