আরজি কর নিয়ে উত্তাল ছিল রাজ্য, অথচ ভোটের ময়দানে কেন এই নীরবতা? নেপথ্যে কোন সমীকরণ?

তিলোত্তমার বিচার চেয়ে গর্জে উঠেছিল গোটা বাংলা। রাজপথ থেকে শ্মশান—জাস্টিসের দাবিতে উত্তাল হয়েছিল ছাত্র-সমাজ থেকে শুরু করে আমজনতা। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ঘুরতেই বদলে গেল দৃশ্যপট। ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে যখন প্রতিটি দল একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া, তখন আশ্চর্যজনকভাবে ব্রাত্য হয়ে পড়েছে আরজি কর ইস্যু। কেন এই রহস্যময় নীরবতা?

স্মৃতি কি ফিকে হচ্ছে?

কয়েক মাস আগেও যে ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে নবান্ন পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল, ভোটের ইস্তেহারে তা কার্যত গুরুত্বহীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আবেগ দিয়ে আন্দোলন চললেও ভোটের অংকে সম্ভবত ‘লোকাল ফ্যাক্টর’ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র মতো পুরনো লড়াইগুলোই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

শাসক ও বিরোধী: দুই পক্ষই কি রক্ষণাত্মক?

  • তৃণমূল কংগ্রেস: শাসক দল শুরু থেকেই এই ঘটনায় কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও, আদালতের বিচারাধীন বিষয় বলে এটিকে কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল অস্ত্র এখন উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা।

  • বিজেপি ও বামফ্রন্ট: আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিরোধীরাও বড় জনসভাগুলোতে আরজি কর নিয়ে আগের মতো জোরালো আক্রমণ শানাচ্ছে না। নেপথ্যে কি তবে নতুন কোনো সমীকরণ? নাকি সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ভোটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ার ভয়?

আন্দোলন বনাম ভোট রাজনীতি

যদিও আরজি করের নির্যাতিতার মা-বাবা বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সম্প্রতি তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন, তবুও জনসভায় তাঁদের লড়াইয়ের প্রতিধ্বনি বিশেষ শোনা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তবে কি ভোটের বাক্সে রক্তের দাগ মুছে যায়?

উপসংহার: বাংলার মানুষ কি শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতেই ভোট দেবেন, নাকি তিলোত্তমার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ ইভিএম-এ প্রতিফলিত হবে? রাজনৈতিক দলগুলো যাই ভাবুক না কেন, শেষ কথা বলবে আগামী ফলাফল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy