পারস্য উপসাগরের অতি সংবেদনশীল জলপথ হরমোজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত এখন আর কেবল রণতরীর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে ‘ডিজিটাল যুদ্ধে’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইরান যেভাবে বিদ্রুপ শুরু করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন নৌসেনার চাপে হরমোজ প্রণালী খুব সহজেই খুলে যাবে। তিনি কিছুটা রসিকতার ছলেই বলেছিলেন যে, “এক, দুই, তিন… বললেই হরমোজ খুলে যাবে এবং সব জাহাজ যাতায়াত করবে।” তাঁর এই ‘সহজ সমাধানের’ দাবিকে ঘিরেই পালটা আক্রমণ শানিয়েছে ইরান।
ইরানের ‘কার্টুন’ কটাক্ষ:
মিনিয়ন অবতার: ইরানের বিভিন্ন দূতাবাস এবং সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পকে একটি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র (Minion)-এর মতো করে দেখানো হয়েছে, যে ব্যর্থভাবে সমুদ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করছে।
“সোশ্যাল মিডিয়া নয়”: হায়দরাবাদে ইরানের কনসুলেট জেনারেল থেকে সরাসরি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছে— “হরমোজ প্রণালী কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নয় যে আপনি চাইলেই কাউকে ব্লক করবেন আর কেউ আপনাকে আনব্লক করবে।” * নৌবাহিনীর প্রতিক্রিয়া: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি ট্রাম্পের এই দাবিকে “হাস্যকর এবং অবাস্তব” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প মাঠের লড়াইয়ে হেরে এখন মিডিয়ায় মুখরক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি: ২০২৬-এর এই উত্তপ্ত আবহে হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়। আমেরিকা সেখানে ‘নেভাল ব্লকেড’ বা নৌ-অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলেও, ইরান ভিডিও প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে জলপথের রাশ এখনও তাদের হাতেই। আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীও বাংলা থেকে এই বিষয়ে ইরানের উস্কানির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন, যা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উপসংহার: বিশ্বের শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে কার্টুন হিসেবে তুলে ধরে ইরান যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙেছে, এমনটাই দাবি করছে হোয়াইট হাউস। তবে ট্রাম্পের এই ‘এক দুই তিন’ তত্ত্ব যে বুমেরাং হয়ে তাঁর দিকেই ফিরে এসেছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড দেখলেই স্পষ্ট।





