বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে সংসদ থেকে সড়ক—তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। গত ১৬-১৭ এপ্রিল লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী (১৩১ সংশোধন) বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার সরাসরি তৃণমূলকে ‘মহিলা বিরোধী’ তকমা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জনসভা থেকে তিনি সাফ জানান, বাংলার মহিলারা এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র উত্তর ইভিএমেই দেবেন।
কেন সংসদ কাঁপল? কী ছিল মোদির সেই বিল?
এনডিএ সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করতে চেয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য নিশ্চিত করা, যা ২০২৯-এর লোকসভা ভোট থেকেই কার্যকর হতো। কিন্তু কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিরোধিতায় প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোট না মেলায় প্রথমবার লোকসভায় পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় মোদি সরকারকে।
বড়জোড়া থেকে মোদির আক্রমণ:
প্রধানমন্ত্রী এদিন সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন:
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: “তৃণমূল চায় না বাংলার মায়েরা বিপুল সংখ্যায় সাংসদ বা বিধায়ক হয়ে আসুক। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিলের বিরোধিতা করেছে।”
মহাজঙ্গলরাজ: মোদির দাবি, মহিলারা তৃণমূলের ‘মহাজঙ্গলরাজ’কে চ্যালেঞ্জ জানানোতেই ভয় পেয়েছে শাসকদল।
আদিবাসী তাস: এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ টেনেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজকে অপমানের অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
পাল্টা তোপ তৃণমূলের: ‘ছদ্মবেশী আইন’
সংসদে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার বিজেপির এই বিলকে ‘ছদ্মবেশী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তৃণমূলের যুক্তি:
বিজেপি আসলে উত্তর ভারতে নিজেদের আসন বাড়াতে আসন পুনর্বিন্যাসের চক্রান্ত করছে।
তৃণমূল যেখানে ৪১ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দেয়, সেখানে বিজেপি দিয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি আন্তরিক হলে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিক, তবেই তারা পাশে থাকবে।
ভোটের অংক: পাখির চোখ মহিলা ভোটার
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে বিধানসভা ভোট। ৪ মে ফলাফল। তার আগে মহিলা সংরক্ষণকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তৃণমূলের ‘মহিলা দরদী’ ইমেজে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করলেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাঁকুড়ার মাটি থেকে মোদির এই বার্তা বাংলার নারী শক্তিতে কতটা জোয়ার আনে, এখন সেটাই দেখার।





