ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে তৈরি হওয়া সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর সঙ্গে কি তৃণমূলের দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটতে চলেছে? গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা যখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাকের কাজ বন্ধ হওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি উড়িয়ে দিয়ে কর্মীদের সরাসরি আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিভ্রান্তি বনাম দলের অবস্থান: সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে খবর ছড়িয়েছিল যে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে আইপ্যাকের সাথে দূরত্ব বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি:
ময়দানের প্রকৃত পরিস্থিতি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিজেপি বা বিরোধীরা এই ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে।
আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে।
কর্মীদের পাশে মমতা: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ডামাডোলের মাঝে আইপ্যাকের কয়েক হাজার কর্মী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন:
“কারও কাজ যাবে না। যাঁরা দলের হয়ে খেটেছেন, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন, সেই কর্মীদের পাশে দল সবসময় থাকবে। আপনারা নিশ্চিন্তে কাজ চালিয়ে যান।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য: ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের নেপথ্যে আইপ্যাকের পরিকল্পনা বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ২০২৬-এর মহারণের আগেও সেই একই পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে চান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া ও মানবিক বার্তা একদিকে যেমন কর্মীদের মনে বল জোগাল, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর’ রাজনীতিতেও জল ঢেলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
উপসংহার: তৃণমূল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাইরে থেকে কে কী বলছে তাতে দলের কিছু যায় আসে না। নির্বাচনের লক্ষ্যস্থির করে ঘর গোছাতে তাঁরা অবিচল।





