এক দিনের স্বস্তি কাটিয়ে ফের অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্যের জলপথ। শুক্রবার হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেও, শনিবার সকালেই সুর বদলে ফের কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করল ইরান। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সমুদ্রপথে ‘জলদস্যুতা’ চালাচ্ছে। এই উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ জমতে শুরু করেছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ
শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প ইরান সম্পর্কে একের পর এক মিথ্যা দাবি করে চলেছেন। মাত্র এক ঘণ্টায় ট্রাম্প সাতটি অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। স্পিকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমেরিকা অবরোধ চালিয়ে গেলে হরমুজ প্রণালীও খুলবে না।”
আইআরজিসি-র কঠোর অবস্থান
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড ক্রপস (IRGC) জাতীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেছে যে, আমেরিকা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলিকে এখনও আটকানো হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আইআরজিসি-র কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
নির্ধারিত পথে এবং ইরানের অনুমতি নিয়েই জাহাজ চলাচল করতে হবে।
বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে আগের মতোই নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘নিরাপত্তা শুল্ক’ বা অর্থ জমা দিতে হবে।
কেন থমকে আছে বিশ্ব?
হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের ‘জ্বালানি ধমনী’। কেন এই জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ, দেখে নিন এক নজরে:
২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস: বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই যায়।
জাহাজ চলাচলে ধস: স্বাভাবিক সময়ে এই পথে প্রতিদিন ১৩৮টি জাহাজ চললেও, সংঘাতের জেরে বর্তমানে তা ১০০-র নিচে নেমে এসেছে।
পাক-আলোচনার গুরুত্ব: আগামী সোমবার পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ইজরায়েল-লেবানন সংঘর্ষবিরতি চললে হরমুজ খোলা থাকবে। কিন্তু আমেরিকার নৌ-অবরোধ সেই সমীকরণ বদলে দিল। এখন গোটা বিশ্বের নজর সোমবারের বৈঠকের দিকে—সেখানে কি মিলবে কোনো সমাধান, না কি আরও মহার্ঘ্য হবে জ্বালানি তেল?





