২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝড়ের গতিতে প্রচার চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও হেলিকপ্টারে উড়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসভা, আবার কখনও দীর্ঘ পদযাত্রা। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, এই রাজকীয় প্রচারের বিপুল খরচ জোগায় কে? রাজ্য সরকার নাকি খোদ তৃণমূল কংগ্রেস?
নির্বাচন কমিশনের কড়া নিয়ম
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের পর তাদের খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দাখিল করতে হয়। নিয়ম স্পষ্ট—নির্বাচনী প্রচারের সমস্ত খরচ বহন করতে হয় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই, সরকারের কোষাগার থেকে এই টাকা খরচ করার কোনও সংস্থান নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস যে হিসেব জমা দিয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল দল মোট ১৫৪.২৮ কোটি টাকা খরচ করেছে।
২০২১-এর খরচের খতিয়ান বনাম বর্তমান পরিস্থিতি
গত নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী তৃণমূলের খরচের প্রধান খাতগুলি ছিল:
স্টার ক্যাম্পেইনারদের যাতায়াত (হেলিকপ্টার ও অন্যান্য): ৩৩.০২ কোটি টাকা।
প্রচার অভিযান: ২৭ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন: ১১.৯৩ কোটি টাকা।
প্রার্থীদের জন্য ব্যয়: ৭৪.৬১ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এ এই খরচ কয়েক গুণ বাড়তে পারে। কারণ এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমানতালে আকাশপথে প্রচার সারছেন। হাইটেক মঞ্চ, কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে আনার জন্য শত শত বাস-ট্রেন ভাড়া এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রচারের পেছনে এবার বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
কোথা থেকে আসে এই টাকা?
তৃণমূল কংগ্রেসের আয়ের উৎস নিয়ে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। ২০২১-২২ অর্থবর্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূলের আয়ের প্রায় ৯৬ শতাংশ টাকা এসেছিল ইলেক্টোরাল বন্ড (Electoral Bonds) থেকে। যদিও বন্ড ব্যবস্থা বর্তমানে নেই, তবে দল তার নিজস্ব তহবিল এবং সদস্য-অনুদান থেকেই এই নির্বাচনী খরচ চালাচ্ছে বলে দলের দাবি। ডিজিটাল প্রচারের পেছনেও এবার কয়েক কোটি টাকা ঢালছে ঘাসফুল শিবির। সব মিলিয়ে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খরচের গ্রাফ ঠিক কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার।





