ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতিতে আজ এক নাটকীয় মোড়। লোকসভায় পেশ করা ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে খারিজ হয়ে গেল। এর ফলে দেশের সংসদ ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের যে দীর্ঘদিনের দাবি, তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অংক মেলেনি শুক্রবার লোকসভায় বিলটি পেশ করার পর ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি, অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩০টি। নিয়ম অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল (অর্থাৎ ৩৫২টি ভোট)। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় বিলটি লোকসভায় পাশ করানো সম্ভব হয়নি।
ডিলিমিটেশন ও আসন সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই বিলটি পাশ হলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসত। সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী:
লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০টি করার কথা ছিল।
২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে নতুন করে সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) করার পরিকল্পনা ছিল।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এই বর্ধিত আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই করার লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রের।
স্থগিত ডিলিমিটেশন বিল সংবিধান সংশোধনী বিলটি আটকে যাওয়ায় তড়িঘড়ি পিছু হঠল কেন্দ্র। স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কেন্দ্রীয় সরকার অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তিন দিনের অধিবেশনে রাখা বাকি দুটি বিল— ‘ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন (সংশোধনী) বিল’— আর পেশ না করা হয়।
মহিলা সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ কী? কেন্দ্রের পরিকল্পনা ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা। এমনকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতেও এই নিয়ম চালুর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সংবিধান সংশোধনীর পথে এই বড় ধাক্কা কার্যত সরকারের কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। বিরোধীদের প্রবল আপত্তির জেরেই কি এই বিপত্তি? নাকি রণকৌশলে ভুল ছিল কেন্দ্রের? আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজধানী দিল্লির অলিন্দে।





