২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কোচবিহারের মাথাভাঙার জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এমন ভোট আগে কখনও দেখিনি।” নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি এবং দিল্লির ‘দাদাগিরি’ নিয়ে আজ আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নিয়ে তোপ: এদিন সকালে তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশি নিয়ে সরব হন মমতা। তিনি বলেন, “ভোট এলেই কেন ইডি-সিবিআই বা ইনকাম ট্যাক্সকে নামানো হয়? ভয় দেখিয়ে আমাদের জেতা আটকানো যাবে না। সাহস থাকলে সামনাসামনি রাজনৈতিক লড়াইয়ে আসুন।”
ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বড় দাবি: এদিন কোচবিহারের সভা থেকে ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ বা ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে বিজেপি আসলে বাংলার এবং দক্ষিণ ভারতের আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর কথায়, “ডিলিমিটেশন বিলের নামে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমি থাকতে বাংলার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না এবং এনআরসি (NRC) করতে দেব না।”
মোদী-শাহকে আক্রমণ: গতকালই কোচবিহারে সভা করেছিলেন অমিত শাহ। তার পাল্টা জবাবে মমতা বলেন, “বাইরে থেকে নেতারা এসে গুন্ডামি করছেন। অস্ত্র আর মাদক পাঠিয়ে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু কোচবিহারের মানুষ এর কড়া জবাব দেবেন।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি যদি মনে করে এজেন্সির ভয় দেখিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখল করবে, তবে তারা ভুল স্বর্গে বাস করছে।
উন্নয়ন বনাম রাজনীতি: মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য তাঁর সরকার চা-বাগান থেকে শুরু করে রাজবংশী ভাষা উন্নয়ন পর্ষদ—সবই করেছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে জোড়া ফুলে ভোট দিয়ে এই ‘অত্যাচারী’ শাসনের জবাব দেওয়ার ডাক দেন তিনি।
নির্বাচনের ঠিক আগে মমতার এই ‘হুঙ্কার’ কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ যে অনেকটাই বদলে দিল, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





