২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন সত্য স্বীকার করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। দীর্ঘদিনের ‘গোপন সমঝোতা’ এবং ‘ভোট ট্রান্সফার’ নিয়ে যে অভিযোগ বিরোধীরা করে আসছিল, তাতে কার্যত শিলমোহর দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে বিমান বসু মেনে নিলেন যে, গত কয়েকটি নির্বাচনে বামেদের ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। তবে তাঁর দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির এক সুগভীর ‘গোপন সমঝোতা’।
বিমান বসুর বিস্ফোরক বয়ান: সাক্ষাৎকারে বিমান বসুকে যখন ‘বামের ভোট রামে’ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি অকপটে বলেন, “দুঃখের হলেও এটাই সত্যি যে বামেদের একটি অংশের ভোট রামে (বিজেপি) গিয়েছে। মানুষ ভুল বুঝিয়ে বা মোহে পড়ে এমনটা করেছে।” তবে তিনি এর জন্য শাসক দল তৃণমূলকেও সমানভাবে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ:
গোপন সমঝোতা: বিমান বসুর দাবি, বাংলায় বিজেপিকে জায়গা করে দিতে তৃণমূল নেপথ্যে সাহায্য করেছে। একে তিনি ‘সেটিং’ বা গোপন সমঝোতা বলে অভিহিত করেছেন।
ভয় ও প্রলোভন: বাম কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে অন্য শিবিরে টেনে নিয়ে যাওয়ার খেলায় দুই দলই লিপ্ত বলে তাঁর অভিযোগ।
ভোট-কাটুয়া তকমা: তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “যখনই বামেরা শক্তিশালী হয়, তখনই আমাদের ‘ভোট-কাটুয়া’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে মূল লড়াই থেকে আমাদের সরিয়ে রাখা যায়।”
২০২৬-এর আগে বামেদের বার্তা: এদিন বিমান বসু বাম সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “রামের মোহ কেটে এখন বামেদের জমিতে ফেরার সময় এসেছে। মানুষ বুঝেছে যে বিজেপি বা তৃণমূল— কেউই সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির কথা ভাবছে না।”
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: বিমান বসুর এই ‘সত্যি স্বীকার’ নিয়ে ইতিমধ্যেই হাসাহাসি শুরু করেছে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই। তৃণমূলের দাবি, “বিমানবাবু পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন অজুহাত খুঁজছেন।” অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, “বামের ভোট রামে গিয়েছে কারণ বামেরা এখন অপ্রাসঙ্গিক। মানুষ উন্নয়নের জন্য মোদীকেই বেছে নিয়েছে।”
নির্বাচনের ঠিক আগে বামেদের এই আত্মসমালোচনা এবং তৃণমূল-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ কি ২০২৬-এর ব্যালট বাক্সে কোনো পরিবর্তন আনবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।





