২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতায় তা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। আর এই বিলম্বই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিতে পারে। শোনা যাচ্ছে, ২০ মাসের বকেয়া বা এরিয়ার (Arrears) বাবদ কর্মচারীরা এককালীন ৩.৬ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
কেন এই বিপুল পরিমাণ টাকা? সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন পে কমিশন কার্যকর হয়। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ গত ডিসেম্বরেই শেষ হয়েছে। ২০২৬-এর শুরুতে নতুন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এটি প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা ও তথ্যানুসন্ধানে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যখনই এই কমিশন সরকারিভাবে বাস্তবায়িত হোক না কেন, তা ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকরী বলে গণ্য হবে। ফলে অন্তর্বর্তী সময়ের পুরো টাকাটাই ‘বকেয়া’ হিসেবে পাবেন কর্মচারীরা।
কাদের মিলবে ১৫ লক্ষ টাকা?
উচ্চপদস্থ আধিকারিক: যাঁদের মূল বেতন (Basic Pay) বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকার অংক ১৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor): এবারের বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৮৫ থেকে ৩.৮৩ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তবে বেতন ও এরিয়ারের অংক আকাশছোঁয়া হবে।
বকেয়া ডিএ (DA): বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অংকটাও এই হিসেবে যুক্ত হবে।
সরকারের বর্তমান অবস্থান: জাতীয় পরিষদের খসড়া কমিটি (NC-JCM) ইতিমধ্যেই কর্মচারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠক করেছে। সূত্রের খবর, ন্যূনতম বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫১,৪৮০ টাকা এমনকি চূড়ান্ত সুপারিশে তা ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল দেওয়ালিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এই বকেয়া ও বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
যদিও সরকারিভাবে এখনও ১৫ লক্ষ টাকার গ্যারান্টি দেওয়া হয়নি, তবে ইকোনমিক টাইমস ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি অনুযায়ী, উচ্চস্তরের কর্মীরা এই বিপুল অঙ্কের লটারি পেতেই পারেন।





