সংসদে পেশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৬-কে কেন্দ্র করে এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিলটিকে স্বাগত জানালেও এর প্রয়োগের শর্ত এবং সময়সীমা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি— এই বিল আসলে ‘ছদ্মবেশী’ এবং স্রেফ নির্বাচনী স্বার্থে আনা হয়েছে।
কেন বিলটিকে ‘ছদ্মবেশী’ বলছে তৃণমূল? তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি এই বিলটি নিয়ে দেশের মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাঁদের যুক্তিতে:
ডিলিমিটেশনের ফাঁস: বিলটি পাস হলেও তা কার্যকর করার জন্য সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং আদমশুমারির (Census) শর্ত রাখা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এর ফলে ২০২৯ সালের আগে মহিলারা কোনো সুফল পাবেন না।
ভোটের অঙ্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের আগে মহিলাদের মন জিততেই বিজেপি এই বিলের জাঁকজমক করছে, কিন্তু বাস্তবে অধিকার দিতে টালবাহানা করছে।
কোটার ভেতরে কোটা: তৃণমূলের দাবি, তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের পাশাপাশি ওবিসি (OBC) মহিলাদের জন্যও আলাদা কোটা থাকা জরুরি ছিল, যা এই বিলে স্পষ্ট নয়।
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ: তৃণমূলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু আগেই দলের ৪০ শতাংশ প্রার্থী মহিলা হিসেবে ঘোষণা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। সেখানে বিজেপির এই বিল কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। এটি একটি রাজনৈতিক স্টান্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।” তৃণমূলের প্রশ্ন, যদি বিজেপির সদিচ্ছা থাকত, তবে এখনই কেন এই সংরক্ষণ কার্যকর করা হচ্ছে না?
জাতীয় স্তরে চাপানউতোর: উল্লেখ্য, সংসদে অমিত শাহ যখন আসন সংখ্যা ৮৫০ করার কথা বলছেন, তখন তৃণমূল সেই অংকের পেছনে হিন্দিভাষী বলয়ের আধিপত্য বাড়ানোর ছক দেখছে। মহিলা সংরক্ষণকে হাতিয়ার করে বিজেপি আসলে সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সাংসদরা।
সংসদে এই বিলের ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূলের এই বিরোধিতার সুর— দুইয়ে মিলে ২০২৬-এর লড়াই যে আরও তিক্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।





