পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ঘুম কেড়েছে লোডশেডিং, ৪৬% পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি! সরকারের নয়া পদক্ষেপে কি মিটবে আঁধার?

একদিকে বাড়ছে সূর্যের তাপ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতভর বারংবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মেহেরপুর থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদের মানুষ।

জনজীবনে হাহাকার: অভিজ্ঞতায় কী বলছেন ভুক্তভোগীরা?

মেহেরপুরের আমঝুপির ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান লিটন বিবিসি বাংলাকে জানান, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অন্তত ৪-৫ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। তিনি বলেন:

“যেদিন কম সেদিনও সাত ঘণ্টা, আর কোনোদিন ১০ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হয়। গরম যেমন বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোগান্তিও।”

ঢাকার বাইরে পৌর এলাকার চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতির পরিমাণ ৩০ শতাংশ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

কেন এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়?

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এবারের সংকটের পেছনে কাজ করছে একাধিক কারণ:

  • জ্বালানি সংকট: চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে অনেক কেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না।

  • আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির যোগান ও মূল্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

  • সরবরাহ ঘাটতি: উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হওয়ায় লোডশেডিংই এখন একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে: ১. অফিসের সময়সীমা কমানো। ২. শপিং মল ও বিপণিবিতান দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ। ৩. অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করা।

তবে এই ব্যবস্থাগুলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (PDB) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এডিটোরিয়াল নোট: তীব্র গরমে লোডশেডিং কেবল নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করছে না, বরং কৃষি সেচ এবং ক্ষুদ্র শিল্পেও বড়সড় প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি আমদানিতে গতি না এলে এই গরমের মরসুমে স্বস্তি মেলা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy