নওশাদ বনাম শওকত: ভাঙড়ে প্রার্থীর লম্বা লাইন! ইতিহাস গড়তে চলেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র

বাংলার নির্বাচনী মানচিত্রে ভাঙড় মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেবল রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য নয়, খবরের শিরোনামে উঠে এল এক অনন্য প্রযুক্তিগত কারণেও। আগামী ২৯শে এপ্রিল ভাঙড়ে ভোটগ্রহণ, কিন্তু অন্য সব কেন্দ্রের তুলনায় এখানকার বুথগুলোতে দৃশ্যটা হবে একেবারে আলাদা। রাজ্যের বাকি জায়গায় একটি করে ইভিএম (EVM) থাকলেও ভাঙড়ের ভোটারদের সামনে থাকবে দুটি মেশিন।

কেন দুটি ইভিএম? জানুন আসল অঙ্ক

সাধারণত একটি ব্যালট ইউনিটে (ইভিএম) সর্বোচ্চ ১৬ জন প্রার্থীর নাম ও প্রতীক রাখা সম্ভব। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৯ জন প্রার্থী। ফলে একটি মেশিনে সবার জায়গা না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়েই প্রতিটি বুথে দ্বিতীয় ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কারা লড়ছেন ভাঙড়ের ময়দানে?

ভাঙড়ে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন:

  • নওসাদ সিদ্দিকি: আইএসএফ (ISF)-এর বিদায়ী বিধায়ক।

  • শওকত মোল্লা: তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক (যিনি এবার ভাঙড়ে ঘাসফুল ফোটানোর দায়িত্বে)।

হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থী ছাড়াও ময়দানে আছেন বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম(এল), এসইউসি(আই)-সহ আরও ১৭ জন নির্দল ও অন্যান্য দলের প্রার্থী। এই বিশাল প্রার্থী তালিকার কারণেই ভাঙড় এখন রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্র যেখানে ‘ডাবল ইভিএম’ ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভোটকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি:

দুটি ইভিএম থাকলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, তাই নির্বাচন কমিশন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে:

  • বিশেষ প্রশিক্ষণ: প্রতিটি বুথের পোলিং অফিসারদের আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে দুটি মেশিনের সিঙ্ক্রোনাইজেশনে কোনো ভুল না হয়।

  • রঙিন ব্যালট: এবার ব্যালটে প্রার্থীদের সাদা-কালো ছবি নয়, বরং ঝকঝকে রঙিন ছবি থাকবে, যাতে ভোটাররা সহজেই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে চিনতে পারেন।

  • সচেতনতা প্রচার: ভোটাররা যাতে ঘাবড়ে না যান, তার জন্য এলাকায় মাইকিং ও প্রচার চালানো হবে।

এডিটোরিয়াল নোট: ১৯ জন প্রার্থীর এই ভিড় প্রমাণ করছে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা জটিল। এখন দেখার, জোড়া ইভিএমের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন—নওশাদ না শওকত?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy