বলিউডের মেগাস্টার শাহরুখ খান যেখানেই যান, জনসমুদ্র সেখানে আছড়ে পড়ে। সেই উন্মাদনা সামলে ‘বাদশাহ’-কে আগলে রাখা কোনো সহজ কাজ নয়। বছরের পর বছর ধরে শোনা গেছে, শাহরুখের ছায়াসঙ্গী রবি সিং কিংবা সলমন খানের শেরারা নাকি বছরে কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান। কিন্তু ইন্টারনেটের এই তথ্যের সত্যতা কতটুকু? সম্প্রতি শাহরুখের প্রাক্তন বডিগার্ড ইয়াসিন খান এই বিষয়ে মুখ খুলে যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।
কোটি টাকার দাবি কি স্রেফ কল্পনা?
দীর্ঘ ১০ বছর শাহরুখ খানের নিরাপত্তার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইয়াসিন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন নিয়ে যে বিপুল অঙ্কের দাবি করা হয়, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। সাধারণের ধারণা ছিল, বছরে ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকা আয় করেন শাহরুখের রক্ষীরা। ইয়াসিন হেসে বলেন, “এমনটা একেবারেই হয় না।” তাঁর মতে, বেশিরভাগ বডিগার্ড নির্দিষ্ট মাসিক বেতনে কাজ করেন। কোনো বিশেষ প্রজেক্ট বা শুটিং থাকলে সামান্য কিছু বোনাস মিললেও তা কখনোই কয়েক কোটিতে পৌঁছায় না।
আসল বেতন তবে কত?
মাসিক ১০ বা ২০ লক্ষ টাকার ভাইরাল দাবি নস্যাৎ করে ইয়াসিন জানান, অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং দক্ষ নিরাপত্তারক্ষীরাও সাধারণত মাসে বড়জোর ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বেতন পান। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “কে দেয় মাসে ১০ লক্ষ টাকা?” ইয়াসিন জানান, এই পেশা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল এবং আয়ের অঙ্কটা একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকে। মূলত গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চাকচিক্য দেখেই মানুষ এই ভুল ধারণা পোষণ করে।
সাফল্যের অন্য এক গল্প:
শাহরুখের সঙ্গে দীর্ঘ এক দশক কাটানোর পর ২০১৫ সালে ইয়াসিন নিজের পথ বেছে নেন। বর্তমানে তিনি আর কারোর বডিগার্ড নন, বরং নিজেই একজন সফল ব্যবসায়ী। গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিকিউরিটি ফার্ম ‘ওয়াইকে প্রোসেক’ (YK PROSEC)। এখন তাঁর সংস্থা বিরাট কোহলি ও শচীন তেন্ডুলকরের মতো মহাতারকাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ইয়াসিনের কথায়, “আমাদের কাজ তখনই আলোচনায় আসে, যখন কোথাও কোনো ভুল হয়ে যায়। বাকি সময়টা আমরা পর্দার আড়ালেই থেকে যাই।”





