কে এই ‘রঞ্জন’? কেনই বা তাঁর আসা আজ ভীষণ জরুরি? পরিচালক পাবলোর নতুন ছবি ঘিরে তুঙ্গে রহস্য!

বর্তমান সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ভিন্নধর্মী আর্ট-হাউস কাজ নিয়ে আসছেন পরিচালক পাবলো। তাঁর আগামী ছবি ‘রঞ্জন আসছে’ ইতিমধ্যেই সিনে-মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। ২০২২ সালে চিত্রনাট্য লেখা শুরু হলেও তিন বছর পর ২০২৫-এর শেষে এসে পূর্ণতা পেয়েছে এই কাজ। বোলপুরের মনোরম পরিবেশে দৃশ্যবন্দি হয়েছে এক লেখক, তাঁর স্ত্রী এবং এক প্রতীকী প্রতিবাদের গল্প।

গল্পের অন্দরে:
ছবির মূল কেন্দ্রবিন্দু লেখক জয় (সত্যকাম আনন্দ)। প্রকাশিকা নয়নতারার (শ্রীতমা দে) চাপে নিজের সেরা গল্প লিখতে গিয়ে তিনি স্ত্রী মন্দাক্রান্তাকে (মৌ) এক শান্ত, অনুগত ‘রেবতী’ হিসেবে কল্পনা করেন। কিন্তু বাস্তবের মন্দাক্রান্তা যেন অন্য এক অগ্নিকন্যা— তাঁর ভেতরে জন্ম নেয় প্রতিবাদী সত্তা ‘মায়া’। এই দ্বৈত সত্তার টানাপোড়েনের মাঝেই আগমন ঘটে নিশীথের (যুধাজিৎ সরকার), যার উপস্থিতিতে জন্ম হয় ‘রঞ্জন’-এর। পরিচালক পাবলোর মতে, রঞ্জন কেবল কোনো চরিত্র নয়, সে আসলে প্রতিবাদ ও এক গণজাগরণের প্রতীক।

টিমের অভিজ্ঞতা:
মুম্বইয়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সত্যকাম আনন্দ এই ছবির জন্য বোলপুরে কাজ করেছেন অত্যন্ত সহজভাবে। পাবলোর কথায়, “শ্রেয়া দাস, সৌরি দেব চট্টোপাধ্যায় এবং সত্যকামের মতো মানুষেরা না থাকলে রঞ্জনের আসার পথ তৈরি হতো না।” অভিনেত্রী শ্রীতমা দে এই ছবিকে ‘অত্যন্ত রাজনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, আমরা যে ব্যবস্থার মধ্যে বাস করতে বাধ্য হই, তার এক স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে এই সিনেমায়। অভিনেতা যুধাজিৎ জানান, এই ছবি সেই সব কথা বলে যা সাধারণ মানুষ সচরাচর বলতে ভয় পায়।

মুক্তির প্রস্তুতি:
প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ মানুষের সামনে আসার আগে ছবিটি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে। ছবির অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক বার্তা ও শৈল্পিক নির্মাণ দর্শকদের ভাবাবে বলে আশাবাদী গোটা টিম। ২০২৬-এর মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘রঞ্জন আসছে’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy