লোকসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। দল প্রার্থী না করায় শেষমেশ ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করলেন জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক। বুধবার রাতে জলঙ্গির কাঁটাবাড়িতে নিজের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। দলত্যাগের পরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
‘সততার জায়গা নেই’: বিস্ফোরক রাজ্জাক
দল ছাড়ার পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাজ্জাক বলেন, “এই দলে সততার কোনো দাম নেই। যারা তোলাবাজি করে টাকা দিতে পারবে, তারাই এখানে প্রার্থী হতে পারে।” তিনি দাবি করেন, বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার ফলে জলঙ্গি, ডোমকল এবং রানিনগর—এই তিনটি আসনেই তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত। নিজের টিকিট না পাওয়ার পিছনে রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেনের হাত রয়েছে বলেও সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ডোমকল মহকুমায় নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই দলকে ভুল বুঝিয়ে বহিরাগত প্রার্থী আনা হয়েছে।
পাল্টা জবাব তৃণমূলের:
রাজ্জাকের এই বিদ্রোহকে আমল দিতে নারাজ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার পাল্ট দাবি করেন, “রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সেই খবর দলের কাছে ছিল। তাঁর দলত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।” উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জলঙ্গিতে এসে নাম না করে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কারণেই বাবর আলিকে প্রার্থী করার কথা বলেন। সেই ‘অপমান’ এবং বহিরাগত প্রার্থীর বিরোধিতাই রাজ্জাককে দলত্যাগের পথে ঠেলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?
রাজ্জাক নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা, তিনি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। প্রসঙ্গত, জলঙ্গিতে এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ের আবহ। তৃণমূলের বাবর আলি, বামেদের ইউনূস আলি সরকার এবং বিজেপির নবকুমার সরকারের পাশাপাশি কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন আব্দুর রজ্জাক মোল্লা।
রাজ্যের একদিকে যখন দলবদল ও ক্ষোভের রাজনীতি চলছে, তখন অন্যদিকে প্রচারে ঝড় তুলছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। আজ উত্তরবঙ্গে পর পর তিনটি জনসভা করার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে সভা ও রোড শো-তে ব্যস্ত থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।





