আর্থিক মন্দার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বড়সড় জ্বালানি সংকটের (Fuel Crisis) মুখে পড়ল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে দেশটিতে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, পাকিস্তান সরকার এখন দেশজুড়ে জ্বালানি ‘রেশনিং’ ব্যবস্থা চালু করার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
কেন এই চরম সংকট?
সুপর্ণা পারুইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংকটের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে:
ইরান-মার্কিন সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাকিস্তান তার জ্বালানির বড় অংশের জন্য এই রুটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।
ডলারের অভাব: পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার তলানিতে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কেনার ক্ষমতা হারিয়েছে শাহবাজ শরিফের প্রশাসন।
রেশনিং ব্যবস্থায় কী হবে?
সূত্রের খবর, রেশনিং চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা চাইলেই আর মনের মতো পেট্রোল বা ডিজেল কিনতে পারবেন না।
বাইক বা প্রাইভেট কারের জন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট লিটার জ্বালানি বরাদ্দ করে দেওয়া হতে পারে।
গণপরিবহন এবং জরুরি পরিষেবার জন্য আলাদা কোটা রাখা হবে।
লোডশেডিংয়ের সময় কমাতেও ডিজেল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হতে পারে।
জনজীবনে প্রভাব
ইতিমধ্যেই করাচি, লাহোর এবং ইসলামাবাদের মতো বড় শহরগুলিতে পেট্রোল পাম্পের বাইরে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। বহু পাম্পে ‘নো স্টক’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে। ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় বাজারে সবজি থেকে শুরু করে ওষুধের দামও আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মত: অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত কোনো আন্তর্জাতিক বন্ধুরাষ্ট্র বা সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে পাকিস্তানের পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যেতে পারে।





