পাহাড়ে বিজেপি সরকার হলেই গোর্খা নেতাদের সব মামলা মকুব? শিলিগুড়িতে না পৌঁছেও ভার্চুয়ালি বড় চাল শাহের!

লোকসভা নির্বাচনের মুখে পাহাড়ের মন জয়ে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার আবহাওয়া খারাপ থাকায় দার্জিলিঙের লেবঙে পৌঁছাতে না পারলেও, মালদা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোর্খাদের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। শাহের সাফ বার্তা, “৫ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার পরই গোর্খা সমস্যার সমাধান আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে।”

মমতার অসহযোগিতার অভিযোগ: অমিত শাহ এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি গত দেড় বছরে অন্তত তিনবার গোর্খা সমস্যা নিয়ে বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু মমতাদিদি নিজে তো যানইনি, এমনকি তাঁর কোনো প্রতিনিধিকেও পাঠাননি। শাহের কথায়, “মমতাদিদি চান না দার্জিলিংয়ের গোর্খারা ন্যায়বিচার বা অধিকার পান। আমি চেয়েছিলাম বাংলায় এসে বৈঠক করতে, কিন্তু দিদি আমাদের সময় দেননি।”

মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি: পাহাড়ের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের জেরে বহু গোর্খা নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা ঝুলছে। এদিন শাহ বড় ঘোষণা করে বলেন, “রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোর্খা নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত বিচারাধীন মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।” এই ঘোষণা পাহাড়ের রাজনীতিতে এক বড় মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পাহাড়ে বিজেপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: লেবঙের সভায় পৌঁছাতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২১ এপ্রিল কার্শিয়াংয়ের সুকনায় তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। সেখানে দার্জিলিং ও পাহাড়ের মানুষের জন্য বিজেপির বিশেষ উন্নয়নমূলক রোডম্যাপ প্রকাশ করবেন তিনি।

পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ: দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং—এই অঞ্চলে এবার রাজনৈতিক লড়াই বেশ জটিল। তৃণমূল কংগ্রেস অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’র (BGPM) সঙ্গে জোট বেঁধেছে। অন্যদিকে বিজেপি বিমল গুরুংয়ের সমর্থন পেলেও এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দীর্ঘদিনের আবেগকে উসকে দিয়ে শাহের এই ‘মামলা প্রত্যাহার’ ও ‘স্থায়ী সমাধানের’ প্রতিশ্রুতি ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy