বড় চাল তৃণমূলের! এবার রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থা সরানোর দাবিতে পথে ঘাসফুল শিবির, তুঙ্গে সংঘাত

নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক আকাশ ফের উত্তপ্ত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির (CBI-ED-NIA) অতি-সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবার রাজ্য থেকে তাদের বিদায় চেয়ে সরাসরি ময়দানে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। আই-প্যাক (I-PAC)-এর কো-ফাউন্ডার ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে এই লড়াই এখন রাজপথ থেকে আইনি আঙিনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন এই বিক্ষোভ? তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। আই-প্যাক, যারা তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করে, তাদের শীর্ষ নেতা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারিকে সরাসরি ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ বলে দেগে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ভোটারদের প্রভাবিত করতে এবং বিরোধী দলের সংগঠনকে পঙ্গু করে দিতেই বেছে বেছে নির্বাচনী কৌশলী ও নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ: মঙ্গলবার বিকেল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন মোড়ে এবং জেলায় জেলায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ধিক্কার মিছিল বের করা হয়। তৃণমূলের শীর্ষ এক নেতার কথায়:

“বাংলার উন্নয়নের কাজে বাধা দিতেই এই এজেন্সি-রাজ। রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা না রেখে বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আমরা চাই অবিলম্বে এই সংস্থাগুলি রাজ্য থেকে বিদায় নিক।”

বিজেপির পাল্টা তোপ: অন্যদিকে, বিজেপির দাবি— “চোর ধরলেই এজেন্সির ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল।” তাঁদের মতে, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী তদন্ত চলবে। এজেন্সিকে রাজ্য থেকে তাড়ানোর দাবি তুলে তৃণমূল আসলে দুর্নীতিকে আড়াল করতে চাইছে।

পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আই-প্যাকের মতো সংস্থাকে ঘিরে এই ধরপাকড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সরাসরি সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy