উত্তর প্রদেশের গোরখপুর থেকে সামনে এসেছে এক রোমহর্ষক অপরাধের কাহিনী, যা হার মানাবে যেকোনো বলিউড থ্রিলারকেও। টাকা হাতানোর নেশায় খাকি পোশাক আর বিয়ের মণ্ডপকে হাতিয়ার করে জাল বুনেছিল কুখ্যাত অপরাধী অঙ্কুর সিং। রাজস্থান ও হরিয়ানার একাধিক পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এই চক্রের সাত সদস্য, যদিও মূল ‘লুটেরা কনে’ এখনও পলাতক।
যেভাবে চলত অপারেশন:
চক্রের মূল হোতা অঙ্কুর সিং নিজে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের নকল পোশাক পরতেন এবং চার সহযোগীকে হেড কনস্টেবল ও কনস্টেবলের ‘ট্রেনিং’ দিয়েছিলেন। হরিয়ানা ও রাজস্থানের সেইসব বয়স্ক অবিবাহিত পুরুষদের তারা টার্গেট করত, যারা অনেক চেষ্টা করেও পাত্রী পাচ্ছিলেন না। দালাল রাজু শর্মার মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের ভালো মেয়ের সাথে বিয়ে দেওয়ার নাম করে তাদের গোরখপুরে আনা হতো।
জয়মালার পরেই ‘পুলিশি রেইড’:
ডাকাতির চিত্রনাট্য ছিল নিখুঁত। নাচ-গান করা মেয়েদের টাকার লোভ দেখিয়ে কনে সাজানো হতো। বিয়ের সাজানো আসরে যখনই জয়মালা অনুষ্ঠান শেষ হতো, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করত অঙ্কুর সিং ও তার ভুয়া পুলিশ বাহিনী। অবৈধ বিয়ের মিথ্যা অভিযোগে ভয় দেখিয়ে বরপক্ষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করে চম্পট দিত তারা।
রাজস্থানের এক ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ কুধাঘাট এলাকায় হানা দেয়। পুলিশ আসার ঠিক আগেই চম্পট দেয় ওই ভুয়া কনে। এসপি নর্থ জ্ঞানেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত সাতজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক কনেকে ধরতে ফতেহপুরে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।





