‘বিচারপতির মন কি আরএসএস-বিজেপির দিকে?’ বিস্ফোরক দাবি তুলে মামলা বদলের আর্জি কেজরীবালের!

ফের একবার বিচারবিভাগ এবং রাজনীতির সংঘাত চরমে। এবার খোদ বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট বিচারপতি আরএসএস এবং বিজেপির আদর্শের প্রতি বিশেষভাবে ‘দুর্বল’, তাই তাঁর থেকে সঠিক বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। এই মর্মে ওই বিচারপতিকে মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী অভিযোগ কেজরীর? আবগারি দুর্নীতি মামলা বা সমসাময়িক আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে কেজরীবাল সরাসরি আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে জানান, কোনো নির্দিষ্ট বিচারপতির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু যখন তিনি কোনো হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক মামলার বিচার করেন, তখন সেই ছায়া রায়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কেজরীর দাবি, সংশ্লিষ্ট বিচারপতির কার্যকলাপে বিজেপি-আরএসএস ঘেঁষা মানসিকতা প্রকট।

কেজরীবালের কৌশলী যুক্তি: তবে নিজের বক্তব্যে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রেখে কেজরী আরও জানান:

“কোনো মামলা থেকে কোনো বিচারপতিকে অব্যাহতি নিতে বলার মানে এই নয় যে তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাঁকে অসম্মান করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। এটি স্রেফ বিচারের স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি পদ্ধতি মাত্র।”

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: কেজরীবালের এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই ফুঁসে উঠেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ইডি-সিবিআইয়ের পর এবার বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে কবজা করতে চাইছেন কেজরী। অন্যদিকে, আপ-এর পক্ষের দাবি, নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

বিচারপতির অবস্থান: সাধারণত বিচারপতির বিরুদ্ধে এমন ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ উঠলে তিনি নিজেই সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান (Recusal)। তবে এই ক্ষেত্রে বিচারপতি কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। যদি তিনি মামলা থেকে সরে না দাঁড়ান, তবে এই আইনি লড়াই যে আরও তিক্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

বাংলার ভোটমুখী রাজনীতির আবহে দিল্লির এই ‘বিচারপতি বনাম নেতা’ সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করল। নিরপেক্ষতার এই সওয়াল কি কেজরীবালের স্রেফ কৌশল, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে— তা নিয়ে এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy