বিজেপির টাকা নিলেই বাড়িতে ঢুকবে ইডি-সিবিআই! সিউড়ির সভা থেকে বিস্ফোরক মমতা

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বীরভূমের মাটি থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সিউড়ির জনসভা থেকে তিনি কেবল কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমালোচনা করেননি, বরং ভোটারদের এক চাঞ্চল্যকর বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মমতার দাবি, বিজেপির দেওয়া টাকা নিলে ভবিষ্যতে বড় বিপদে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।

বিজেপির টাকা মানেই কি ইডি-সিবিআই? এদিন সরাসরি ভোটারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

“বিজেপির কাছ থেকে খবরদার টাকা নেবেন না। ওরা প্রথমে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবে, তারপর বলবে ওটা কালো টাকা। আর তার ঠিক পরেই আপনার বাড়িতে ইডি-সিবিআই পাঠিয়ে কেস ঠুকে দেবে।”

এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল নেত্রী আসলে পরাজয়ের ভয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন।

মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দাবি করেছিলেন তিনি বাংলার ২৯৪টি আসনেই নিজে প্রার্থী। এর পাল্টা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদটা ছেড়ে দিন। আগে ঠিক করুন আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন?” তিনি মোদীকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে সাফ জানান, দিল্লি সামলানোই প্রধানমন্ত্রীর আসল কাজ, বাংলা নয়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন মমতা। তিনি বলেন,

  • প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব: “আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেব বলেছিলাম এবং দিচ্ছি। আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিই না।”

  • বিজেপিকে খোঁচা: “ওরা ৩,০০০ টাকা দেবে বলছে, অথচ আগে কখনও ১,০০০ টাকাও দিয়েছে কি?”

  • চাকরি ইস্যু: রেলে নিয়োগ বন্ধ এবং সেনাবাহিনীতে শূন্যপদ নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল?”

ভোটার তালিকা ও বিভাজনের রাজনীতি: এদিনের সভা থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ষড়যন্ত্র করে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৩২ লক্ষ নাম রাজ্য সরকার লড়াই করে ফিরিয়ে এনেছে। পাশাপাশি বিজেপির রাজনীতিকে ‘বিষগাছ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “ওদের ধর্ম মানে মানুষের মধ্যে বিষ ঢালা, আর আমার ধর্ম হলো মানবতা।”

সিউড়ির এই সভা থেকে মমতা যে সুর বেঁধে দিলেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে আসন্ন নির্বাচনে লড়াই হবে অত্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে। একদিকে বিজেপির আর্থিক প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের ‘ঘর আগলে রাখার’ ডাক— বাংলার মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy