২০২৬-এর মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অনিচ্ছার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলো নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের ডিউটির সূচি পাওয়ার পর যদি কোনো কর্মী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কাজে যোগ না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হতে পারে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যেতে পারে।
কমিশনের কড়া বার্তার মূল দিকগুলি:
আইনি খাঁড়া: নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (Representation of the People Act, 1951) নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত হওয়া প্রতিটি সরকারি কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা: কেবল জরিমানা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীর সার্ভিস বুকে ‘অসন্তোষজনক’ মন্তব্য থেকে শুরু করে বিভাগীয় তদন্ত এবং প্রয়োজনে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা স্থায়ী পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অজুহাত গ্রাহ্য নয়: শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ডের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাধারণ কোনো অজুহাত দেখিয়ে ডিউটি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পথ এবার কার্যত বন্ধ।
কেন এই কড়াকড়ি? নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো একটি নিশ্ছিদ্র এবং শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এর জন্য বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ সরকারি কর্মীর প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, ভোটের ঝুঁকি বা ব্যক্তিগত কারণে অনেকে ডিউটি এড়াতে চান। এতে ভোট পরিচালনার কাজে বিঘ্ন ঘটে। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই এবার গোড়া থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল কমিশন।
কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া: কমিশনের এই ‘চাকরি নিয়ে টানাটানি’র বার্তায় সরকারি কর্মচারী মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেক সংগঠন দাবি করছে যে, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার দিকেও কমিশনের নজর দেওয়া উচিত। তবে কমিশনের সাফ কথা—গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি সরকারি কর্মীর আইনি দায়িত্ব।





