ভোট জালিয়াতির দিন শেষ? এবার কি বুথে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বায়োমেট্রিক? বড় নির্দেশের পথে সুপ্রিম কোর্ট!

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মানেই ‘ছাপ্পা ভোট’ আর ‘রিগিং’-এর অন্তহীন অভিযোগ। তবে এবার সেই কালিমামুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার এবিপি আনন্দ-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সুপ্রিম কোর্ট বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

কী এই নতুন চিন্তাভাবনা? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কেবল ভোটার কার্ড (EPIC) দেখিয়েই এবার হয়তো ভোট দেওয়া নিশ্চিত করা যাবে না। জালিয়াতি রুখতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে:

  • বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন: ভোটার যখন বুথে ঢুকবেন, তখন তাঁর আঙুলের ছাপ (Fingerprint) বা চোখের মণি (Iris) স্ক্যান করা হতে পারে। আধারের ডেটাবেসের সাথে তথ্য মিললে তবেই ইভিএম (EVM) আনলক হবে।

  • ভোটের নতুন গাইডলাইন: ভোটারদের জন্য আরও কড়া নিয়ম জারি হতে পারে। যেমন, পরিচয়পত্রের পাশাপাশি আঙুলের ছাপে অমিল থাকলে তৎক্ষণাৎ ভোটদান স্থগিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

  • ভুয়ো ভোটার চিহ্নিতকরণ: মৃত ব্যক্তি বা অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম ব্যবহার করে যাতে কেউ ভোট দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল সুরক্ষা বলয়।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কেন জরুরি? মামলাকারীদের দাবি ছিল, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে যদি রেশন থেকে টাকা তোলা—সবই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হতে পারে, তবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব কেন পিছিয়ে থাকবে? আদালত এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যদি এই নির্দেশিকা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে পেশিশক্তি ব্যবহার করে বুথ দখল বা জাল ভোট দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কমিশনের প্রস্তুতি: যদিও হঠাৎ করে প্রতিটি বুথে বায়োমেট্রিক মেশিন বসানো পরিকাঠামোগতভাবে বড় চ্যালেঞ্জ, তবে আদালত নির্দেশ দিলে অন্তত ‘অতি-সংবেদনশীল’ বুথগুলোতে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হতে পারে।

ভোটারদের জন্য বার্তা: আগামী দিনে ভোটারদের উদ্দেশ্যে কমিশন নতুন নির্দেশিকা জারি করতে পারে যে, পরিচয়পত্রের পাশাপাশি তাঁদের আধার কার্ড বা অন্য বায়োমেট্রিক নথিপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy